কোনো শিক্ষার্থীর চোখেমুখে ভয় নেই, দুঃশ্চিন্তা নেই। সবাই হাসিখুশি; সবাই উৎফুল্ল। আজ তারা ভিন্ন রকমের এক পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছে। এতোদিন তারা বই না দেখে পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু আজ সবাই পরীক্ষা দেবে বই দেখে। তারা বই দেখে নিজেরাই প্রশ্ন তৈরী করবে এবং উত্তর লিখবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে বেশী সংখ্যক সঠিক প্রশ্ন ও উত্তর তৈরী করতে পারবে, তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। বিজয়ীদের লেখা প্রশ্ন-উত্তর ছাপা হবে 'ইত্তেফাক'-এর অনুশীলন পাতায়।
IMG0
ভিন্ন আয়োজন, ভিন্ন উদ্যোগ। তাই ছাত্র-শিক্ষক সবার মধ্যেই ছিল এক ধরনের কৌতুহল! দৈনিক ইত্তেফাকের 'অনুশীলন স্কুলে স্কুলে' বিভাগের নতুন আয়োজন 'বই পড়ে লিখো' কার্যক্রম। গতকাল ২৬ অক্টোবর সকালে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার 'পুটিজুরী এস.সি.উচ্চ বিদ্যালয়'-এ অনুষ্ঠিত হয় 'বই পড়ে লিখো'র ব্যতিক্রমধর্মী এ পরীক্ষা। বিদ্যালয়ের নবম, সপ্তম ও ষষ্ঠ শ্রেণির প্রায় ৭'শ শিক্ষার্থী উক্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়। এক সপ্তাহ আগেই শিক্ষার্থীদের বিষয় ও অধ্যায় জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। নবম শ্রেণির বিষয় ছিলো 'বাংলা ১ম পত্র'; সপ্তম শ্রণির 'বিজ্ঞান' এবং ষষ্ঠ শ্রেণির বিষয় ছিল 'বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়'। মোট ১২টি গ্রুপে অংশ নেয় প্রতিযোগীরা। পরীক্ষায় প্রতি গ্রুপ থেকে একজন করে ১২জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কানু প্রিয় চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন-উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রতন কুমার সাহা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ আব্দুল আহাদ ও বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইন চার্জ-এর প্রতিনিধি এস.আই ফকরুজ্জামান। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিদ্যালয় পিটিএ কমিটি'র সভাপতি হাজী আবুল কালাম, ম্যানেজিং কমিটি'র সদস্য রমাপদ দাস, সহকারী প্রধান শিক্ষক দুলন চন্দ্র দাস, সহকারী শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ ফজলুল হক, শিক্ষার্থী জান্নাতুল আদনী চৌধুরী ও আলী হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন- সহকারী শিক্ষক ও ইত্তেফাকের অনুশীলন পাতা'র লেখক পংকজ কান্তি গোপ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, 'ইত্তেফাক একটি ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা। ইত্তেফাকের 'অনুশীলন স্কুলে স্কুলে' 'বই পড়ে লিখো' কার্যক্রমটি নি:সন্দেহে ভালো উদ্যোগ। এতে করে ছাত্রছাত্রীরা বই পড়ায় আরো মনযোগী হবে। বক্তারা বলেন, 'সারাদেশে এ কার্যক্রমটি ছড়িয়ে দেয়া উচিৎ।'
বই পড়ে লিখি'র আজকের পরীক্ষায় বিজয়ী ১২জন হলো-
নবম শ্রেণিঃ মো: জাকির হোসেন,মো: আলী হোসেন, নাদিরা আক্তার লিজা, মরমচাঁন রিপা আক্তার।
সপ্তম শ্রেণিঃ সৈকত পাল, দেবাশীষ দাস, মোছা: নাজমা আক্তার, মোছা: তানিয়া আক্তার মনি।
ষষ্ঠ শ্রেণিঃ মো: মুছাব্বির আহমেদ রাকিব, মোছা: জান্নাতুল ফেরদৌস জিহাদ, পূজা অধিকারী, লিজা আক্তার মনি।
আজকের পরীক্ষায় যে সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেন তারা হলেন- রুবী রানী দাস, শেখ মোহাম্মদ ফজলুল হক, সুলতানা মুমিনা জাহান, মনজুর আলী, আবু বক্কর সিদ্দিক, রূপম আচার্য্য, আবু সালেহ মো: জাবের, মাকসুদা আক্তার ও সেজূতি চক্রবর্তী। সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্বে পালন করেন পংকজ কান্তি গোপ।