আমিরকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাকিস্তান

স্পোর্টস রিপোর্টার

বিশ্বকাপ যতই কাছে আসছে ততই পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্টের কপালের দুশ্চিন্তার ভাঁজ যেন প্রবল হচ্ছে। দলটির সবচেয়ে বড় সমস্যা নি:সন্দেহে ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ আমিরের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স। ২৭ বছর বয়সী এই পেসারকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন স্বয়ং অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদও।

তিনি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে আমিরের ব্যাপারে খোলাখুলিই আলাপ করেন। বলেন, ‘যখন আপনার মূল স্ট্রাইক বোলার নিয়মিত উইকেট পাবেন না, তখন অধিনায়ক হিসেবে আমার দুশ্চিন্তা না করে কোনো উপায় নেই।’

গেল ২০১৭ সালের জুনে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতে পাকিস্তান। ফাইনালে হারায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে। সেই ম্যাচে সবচেয়ে বড় পারফরমার ছিলেন মোহাম্মদ আমির। শুধু ফাইনাল নয়, গোটা আসর জুড়েই দারুণ ছন্দে ছিলেন বাঁ-হাতি এই পেসার।

যদিও, এরপর থেকেই বাজে সময় শুরু হয় স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির জের ধরে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা এই তরুণের। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর থেকে যে ১০১ টি ওভার তিনি ওয়ানডেতে করেছেন এর মধ্যে পেয়েছেন মোটে পাঁচটা উইকেট। বোলিং গড় ৯২.৬০। এই পরিসংখ্যানটা মোটেও আমিরের সাথে যায় না।

বিশ্বকাপ দলে আমিরের জায়গা হবে কি না, সেই ব্যাপারে তাই সরফরাজ কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না। বললেন, ‘আমির বিশ্বকাপ দলে থাকবেন কিনা, সেটা আমি বলতে পারছি না। তবে আমাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে আমার একদম পরিষ্কার। আর সেই পরিকল্পনাটা কি সেটা দল যখন ঘোষণা করা হবে তখনই সবাই জানতে পারবে।’

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে প্রত্যবর্তনের পর এতবড় অফফর্মের মুখোমুখি আমিরকে আর কখনোই হতে হয়নি। এর মধ্যে আমির গত বছরের এশিয়া কাপেও খেলেছিলেন। কিন্তু তিন ম্যাচের ১৮ ওভার বল করে তিনি একটি বারের জন্যও কোনো উইকেটের দেখা পাননি।

এই সময় তাই আমিরের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ ঝুঁকির মুখেই পড়ছে। যদিও, বিশ্বকাপের আগে হাতে যখন আর মাত্র দুই মাসেরও কম সময় বাকি তখন এই ক্রিকেটারকে আশ্বস্ত করলেন দলের বোলিং কোচ আজহার মেহমুদ। তিনি বলেন, ‘আমির চমত্কার একজন বোলার। তবে সে বিরামহীন ক্রিকেট খেলছে। তাই তার ফিটনেস নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। আমির যদি ফিট থাকে আর ছন্দে বোলিং করতে পারে, তবে আমরা জানি আমাদের মূল উইকেট শিকারি বোলার হবে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের বড় একটা সময় বেঞ্চে থাকবেন আমির। তিনি দ্বিতীয় ম্যাচটায় অবশ্য খেলেছিলেন। তবে, কোনো উইকেট না পেয়ে রান হজম করেছেন ৫৯ টি। এমন পারফরম্যান্সের পর তাকে ঘিরে পাকিস্তান শিবিরে কানাঘুষা আরো তীব্র হয়েছে।

এরই মধ্যে ওয়ানডেতে অভিষেক হয়ে গেছে মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ হাসনাইনের। এগুলো হয়েছে আমিরের বাজে পারফরম্যান্সের জের ধরেই। সাথে জুনায়েদ ও শিনওয়ারি আছেন। আর পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দিচ্ছেন হাসান আলী ও শাহীন শাহ আফ্রিদি। সব মিলিয়ে এই বছর নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপটা মোহাম্মদ আমির না খেলতে পারলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকছে না।