শেরপুর জেলায় ৩টি সংসদীয় আসন। শেরপুর-১ আসন সদর উপজেলা, শেরপুর-২ আসন নকলা ও নালিতাবাড়ি উপজেলা এবং শেরপুর-৩ আসন ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলা নিয়ে গঠিত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহী প্রার্থীদের জোর দেন-দরবার শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের নেকনজরে পড়ার জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রচেষ্টার অন্ত নেই। অনেকে কেন্দ্রে গিয়ে ধরনা দিচ্ছেন। সেই সাথে এলাকায় চলছে তাদের প্রচারণা।
জেলার বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ‘অমুক ভাইকে এলাকাবাসী সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায়’ শীর্ষক সচিত্র বিলবোর্ড ও পোস্টার। অপরদিকে বিভিন্ন দলের মধ্যে চলছে গ্রুপিং-লবিং ও মেরুকরণের কাজ। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যেই এ তত্পরতা বেশি। একই আসনে এ দলের আগ্রহী প্রার্থীর সংখ্যাও বেশি। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকার কারণে এ দলের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব, কোন্দল ও গ্রুপিং বৃদ্ধি পেয়েছে। দলের নেতারা দলের মধ্যে গ্রুপিং নেই বললেও বর্তমানে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত পৌরসভা ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে জেলা সদরে আওয়ামী লীগ দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। দলীয় কর্মসূচিও পৃথকভাবে পালিত হচ্ছে। প্রকাশ্য মিটিং-এ একগ্রুপ অন্যগ্রুপ সম্পর্কে অশালীন ভাষায় বক্তব্য দিতেও দ্বিধা করছে না।
অপরদিকে বিএনপিও একবারে ঘরে বসে নেই। তাদের দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে থাকা দলীয় কার্যালয়টি কিছুদিন ধরে সচল হয়ে উঠেছে। নেতাকর্মীদেরও আনাগোনা শুরু হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপি’র সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এ সম্পর্কে জেলা বিএনপি’র সদ্য নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোঃ হজরত আলী জানান, তারা ইতোমধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা তৈরি করেছেন। কিন্তু দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশে না থাকায় তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। চেয়ারপারসন দেশে ফিরেছেন, তার অনুমোদন সাপেক্ষে অচিরেই পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হবে।
জেলা জাতীয় পার্টি শেরপুরের তিনটি আসনেই এবার একক ভাবে নির্বাচন করবে বলে জেলা সভাপতি ইলিয়াস উদ্দিন জানিয়েছেন। তবে সেই সাথে তার দলের মধ্যে মহাজোটের শরীক হিসেবে আসন ভাগাভাগির চিন্তাও রয়েছে। তার দল তিনশ’ আসনের মধ্যে ৮০টি আসন চাইবে। এর মধ্যে শেরপুর-১ আসনটিও রয়েছে। এ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ইতোমধ্যেই ইলিয়াস উদ্দিনের নাম শেরপুর সফরকালে ঘোষণা দিয়ে গেছেন।
উল্লেখিত তিনটি দল ছাড়াও জেলায় জাসদের কিছু কর্মসূচি পালনের দৃশ্য চোখে পড়লেও সম্প্রতি দলটি দ্বিধা-বিভক্ত হওয়ার কারণে সাংগঠনিক দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এরপরও জাসদের ইনু গ্রুপের পক্ষ থেকে জেলা সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটন মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।
ইত্তেফাক/নূহু