গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের দরাপের ডাঙ্গী এলাকার খালের সেতু না থাকায় উজানচর ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ২০ গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা খেয়া ঘাট। উজানচর ও দৌলতদিয়া ছাড়া পার্শ্ববর্তী ফরিদপুরের ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের প্রায় ২০ গ্রামের মানুষের দাবি সেতু নির্মাণ। সেতুর অভাবে এসব অঞ্চলের মানুষকে সারা বছর খেয়া নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হবে। প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ উজানচর ইউনিয়নের ১৫ হাজার মানুষ চলাচল করে।
উজানচর ইউপি সদস্য চুন্নু মীর মালত বলেন, প্রতিদিন খেয়া পারি দিয়ে যাতায়াত করে। খালের দক্ষিণ পাশে সাতটি গ্রাম এবং উত্তরে রয়েছে আরো আটটি গ্রাম। প্রতিদিন এই খাল পাড়ি দিয়ে এই অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে থাকে। কিন্তু সেতু না থাকায় ও রাস্তার বেহাল দশার কারণে মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।
সাত নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম খবির বলেন, খালের দুই পাশে দুইটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি দাখিল মাদ্রাসা ও তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ দুটি হাঁট-বাজার রয়েছে। শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। অত্র অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে খালের ওপর সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে।
উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফকির বলেন, ওমেদ বেপারীপাড়া, গফুর মণ্ডল পাড়া, দরাপের ডাঙ্গী (উত্তর পাড়), ভোলাই মাতুব্বর পাড়া, হাবিল মণ্ডলপাড়া, গণি শেখ পাড়া, জৈনদ্দিন মাতুব্বর পাড়া (উত্তর পাড়), মাখন রায় পাড়া, ছাহের মণ্ডল পাড়া, জৈনদ্দিন সরদার পাড়া, জতিন বদ্দির পাড়া, নলিয়া পাড়া, ফৈজদ্দিন মাতুব্বর পাড়া (দক্ষিণপাড়), জামতলা ও দরাপের ডাঙ্গী (দক্ষিণ পাড়) ছাড়াও আশপাশের প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার মানুষ চলাচল করে। বিপরীতে ফরিদপুরের ঈশান গোপালপুর, আনন্দ বাজার, মল্লিক পাড়া, চাঁদপুরসহ ৫-৬টি গ্রামের ৪-৫ হাজার মানুষ এই খাল পাড়ি দিয়ে চলাচল করে।
উপজেলা প্রকৌশলী সহিদুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসী জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রস্তাব দিলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করবো। এ সময় তিনি আরো জানান, ২০১৫ সালে প্রায় ৭০ লাখ ৯৪ হাজার ১৪৭ টাকা ব্যয়ে দরাপেরডাঙ্গী ও হাবিল মন্ডল পাড়া সড়কের উন্নয়ন কাজ হলেও অতি বৃষ্টির কারণে রাস্তাটি ধসে পড়ছে।
ইত্তেফাক/নূহু