ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে নজর উগ্র জাতীয়তাবাদীদের

মে মাসের শেষদিকে অনুষ্ঠিতব্য ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট (ইপি) নির্বাচনে চমক দেখাইবার জোর চেষ্টায় নামিয়াছেন সর্ব-ইউরোপীয় উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। অভিবাসীবিদ্বেষ, জাত্যাভিমান ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) বিপরীতে ইউরোপীয় জাতি-রাষ্ট্রগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ দেখাইবার মধ্য দিয়া আসন্ন নির্বাচনে বাজিমাত করিতে চাহিতেছেন তাহারা। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইতোমধ্যেই এইবারের ইপি নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থিদের ভালো ফলের ইঙ্গিত দেওয়া হইয়াছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে ইপিতে মোট ৭৫১টি আসন রহিয়াছে। ব্রেক্সিটের পরে চলতি বত্সর হইতে এই সংখ্যা কিছুটা কমিয়া ৭০৫টিতে দাঁড়াইবে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলির প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের সরাসরি ভোটে ইপি-এর এমপিরা নির্বাচিত হইয়া থাকেন।

নির্বাচনের জন্য উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রচারণার অন্যতম মুখপাত্র হিসাবে গত সোমবার মাঠে নামিয়াছেন ইতালির ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও সালভিনি। তিনি নূতন এই নির্বাচনী প্রচারাভিযানের নাম দিয়াছেন ‘ইউরোপের জন্য আগামী ৫০ বত্সরের স্বপ্ন’। সালভিনির সহিত এই প্রচারাভিযানে আরো অংশগ্রহণ করেন জার্মানির অলটারনেটিভ ফর ডয়েচল্যান্ড (এএফডি) দলের নেতা ইয়ুর্গ মেউথেন ও ডেনমার্কের পিপলস পার্টির নেতা ওলি কটরো। উভয় দলই বর্তমানে ইউরোপে শীর্ষস্থানীয় উগ্র জাতীয়তাবাদী দল হিসাবে স্বীকৃত। ইউরোপের উগ্র জাতীয়তাবাদীদের অন্যতম কৌশল হইতেছে ইইউকে ভিতর হইতে ধসাইয়া দেওয়া। এই কারণেই তাহারা নিজেদেরকে ইউরোপপ্রেমী হিসাবে উত্থাপন করিতে চাহেন। তবে এই ইউরোপ-প্রীতি হইতেছে তাহাদের পছন্দমাফিক। এই পছন্দমোতাবেক ইউরোপ হইবে শ্বেতকায় ও মূলত অভিবাসীমুক্ত। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাহাদের দাবি হইতেছে ইইউ-এর কেন্দ্রীয় ক্ষমতা হ্রাস, কড়া অভিবাসন-নীতি ও ইইউ-এর সীমানার বাহিরে থাকা অবস্থাতেই অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীদের আটকাইয়া দেওয়া। উগ্র জাতীয়তাবাদীরা অবশ্য খোদ ইইউকেই সন্দেহের চোখে দেখিয়া থাকেন এবং এই সন্দেহকে নিজ নিজ দেশের জনগণের মধ্যে ছড়াইতে সচেষ্ট থাকেন। সালভিনি সোমবার পুরাতন কৌশলের পুনরাবৃত্তি ব্যতীত নূতন কিছুই করেন নাই, এইদিন ইইউকে ইঙ্গিত করিয়া তিনি বলিয়াছেন, ‘ইউরোপকে শাসন করিতে থাকা আমলাগোষ্ঠী ও ব্যাংককর্তাদের দ্বারা ইউরোপীয় স্বপ্নগুলি ঝুঁকির মধ্যে পড়িয়া গিয়াছে’। আশঙ্কা করা হইতেছে যে অর্থনৈতিক মন্দার দশকটিতে মাথাচাড়া দিয়া উঠা অভিবাসী-শরণার্থী বিদ্বেষের এই সময়ে সালভিনি ও তাহার মিত্রদের এহেন প্রচার-প্রচারণা সাধারণ শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের মনোযোগ অনেকটাই আকর্ষণ করিয়া ফেলিবে। ইহার বিপরীতে সর্ব-ইউরোপীয় উদার গণতান্ত্রিক শক্তি নির্বাচনের পূর্বে ঠিকঠাকমতো জোট বাঁধিতে সক্ষম না হইলে, ইপিতে উগ্র জাতীয়তাবাদীরা প্রবল হইয়া উঠিবার পথ পাইয়া যাইবে।

উগ্র জাতীয়তাবাদীরা ইপি দখলের জন্য একজোট হইয়া মাঠে নামিয়া সফল হইয়া গেলে, ইউরোপের উদারপন্থি শক্তিটিকে লম্বা সময়ের জন্য ভুগিতে হইবে বলিয়া মনে করিতেছেন অনেক বিশ্লেষক। তবে নানাবিধ বিষয়ে স্বার্থগত ও বিষয়গত মতানৈক্যের কারণে শেষাবধি ইউরোপীয় উগ্র-জাতীয়তাবাদীদের একক কোনো প্ল্যাটফর্ম তৈরি হইবে না বলিয়াও অনেকে মনে করিতেছেন। বিশেষ করিয়া, রাশিয়ার সহিত সম্পর্ক ও ইইউ ট্যাক্সের প্রসঙ্গে বিভিন্ন দেশের উগ্র-জাতীয়তাবাদীদের মধ্যে ভালো রকমের মতের অমিল বিরাজ করিতেছে।