চাঁদাবাজির শিকার হয়ে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হলো মুক্তিযোদ্ধার পরিবার

চাঁদাবাজির শিকার হয়ে নিজের ফ্ল্যাট থেকে উৎখাত হয়েছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবার। মানবেতর জীবন যাপন করা পরিবারটি এখন চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি নিজের বাসস্থান ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন মুক্তিযোদ্ধা মো. ইকবাল আজিম।
 
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, উত্তরা ফিজিক্যাল এডুকেশন কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তিনি। ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ৬/এ, রোডের ৪৯ নম্বর বাড়ির ১/ডি ফ্ল্যাটটি তার স্ত্রী লুৎফন নাহারের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া। এই ফ্ল্যাটে তিনি দীর্ঘ দিন থেকে বসবাস করে আসছেন। ফ্ল্যাটটি দখলের উদ্দেশ্যে ধানমন্ডি থানা কমিউনিটি পুলিশের কথিত সভাপতি ও ফ্ল্যাটের স্বঘোষিত সভাপতি শওকত হোসেন নানাভাবে তাকে হয়রানি করে। তার কাছে ভবন উন্নয়নের নামে ১৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ৬ তলা ভবনের ১৮ ফ্লাটের বাসিন্দারা শওকতের ভয়ে তটস্থ থাকেন। শওকত হোসেন জনৈক সাইদ হোসেনকে দিয়ে গত ১৫ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে ১৮ অক্টোবর শওকতের নেতৃত্বে একদল হিজড়াসহ ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল তার ফ্ল্যাটে আক্রমণ করে। ফ্ল্যাট থেকে তারা ৯টি গুলিসহ লাইসেন্স করা ১টি পিস্তলসহ ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে। তাদেরকে ফ্ল্যাট থেকে বের করে দিয়ে শওকত ওই ফ্ল্যাটের দখল নেয়। এ ঘটনায় তিনি ধানমন্ডি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে তিনি আদালতে একটি মামলা করেন। 
 
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ প্রশাসনের কাছেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না। এই অবস্থায় তিনি মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইকবাল আজিমের স্ত্রী লুৎফন নাহার, বড় ছেলে নাসির আজিম, ছোট ছেলে ইসা আজিম, মেয়ে বুশরা ও নাতনী মেহজাবীন। 
 
ইত্তেফাক/এমআই