পরিত্যক্ত পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল

পরিত্যক্ত পলিথিন বিশ্বে পরিবেশদূষণের জন্য সবচেয়ে ভয়ানক সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত। জামালপুর কোজগড় গ্রামের মোহাম্মদ তাওহিদুল ইসলাম ‘ফুয়েল ফ্রম ওয়েস্টেজ    প্ল­াস্টিক অ্যান্ড পলিথিন’ নামে একটি প্রজেক্ট করেছেন। একদিন অন্তর অন্তর প্রায় ১০০ লিটার ডিজেল ও পেট্রল উত্পাদন করতে সক্ষম হচ্ছেন। উত্পাদনের সঙ্গে নির্গত গ্যাস জ্বালানির কাজে ব্যবহারযোগ্য। প্রতি লিটার জ্বালানি উত্পাদনে ব্যয় ৩৭ টাকা। এ জ্বালানি তেল উত্পাদনের সঙ্গে ছয়জন নিয়মিত কাজ করছে এবং বিশজন কাগজ কুড়ানো ছেলের কাছ থেকে নিয়মিত কাঁচামাল হিসাবে পরিত্যক্ত পলিথিন নিচ্ছেন তিনি।

পলিথিন জলাবদ্ধতার অন্যতম একটি প্রধান কারণ। যদি পলিথিন ধ্বংস করা না হয় তাহলে জলাবদ্ধতা নিরসন ও নদী, খাল, বিল, ডোবা, পুকুর, জলাশয় দূষণের হাত থেকে রক্ষা করা অসম্ভব। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত ড্রেন, নালা, খাল ইত্যাদি একমাত্র পলিথিনের কারণে ময়লা জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে। এজন্য তাওহিদুলের পদ্ধতিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রজেক্ট করে শিক্ষিত বেকার যুবকদের প্রশিক্ষিণ দিয়ে জামানত ছাড়া শর্তহীনভাবে স্বল্পসুদে ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা করে দিলে দেশে জ্বালানি চাহিদা মেটানো ও  পরিবেশদূষণমুক্ত করার কাজে উল্লে­খযোগ্য অগ্রগতি হবে। এ পদ্ধতিতে উত্পাদিত জ্বালানি তেল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বর্তমান বাজার দামের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে কিনলে ও পরিবেশদূষণ দূর, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ সার্বিক দিক বিবেচনায় অধিকতর লাভজনক হবে। এটা ক্ষুদ্র না মাঝারি আকারে হবে সে বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ, প্রকৌশলীদের সঙ্গে সরকারের নীতি নির্ধারকগণ আলাপ-আলোচনা করে যেটা অধিকতর কল্যাণজনক হবে সেটা দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা দেশবাসীর।

আব্বাস উদ্দিন আহমদ

ধোপাদিঘির দক্ষিণ পাড়,

সদর, সিলেট ৩১০০