তিন ফরম্যাটে টানা সাত ম্যাচে হারকে বাংলাদেশের স্বাভাবিক খেলা বলে মানতে রাজী নন জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার। তাই অন্যদের মতো তিনি নিজেও এই দুর্দশার কারণ খুঁজছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করেছে বাংলাদেশ দল। প্রথম টেস্টে ৩৩৩ রানে হার। পরের টেস্টে ইনিংস ও ২৫৪ রানে। তিন ওয়ানডেতে ১০ উইকেট, ১০৪ রান ও ২০০ রানে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে ২০ ও ৮৩ রানে হেরেছে সফরকারীরা।
পরাজয়ের ব্যবধানই বলে দিচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর কতটা দুঃস্বপ্নের গেছে বাংলাদেশ দলের। সাকিব-মুশফিকদের এমন ভরাডুবির কারণ খুঁজতে গিয়ে খোদ জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলছেন, এটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের মূল ছবি নয়। বিরুদ্ধ কন্ডিশনে এর চেয়ে ভালো খেলার সামর্থ্য আছে বাংলাদেশ দলের।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারও এতটা খারাপ হওয়ার কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। গতকাল বিসিবি একাডেমি মাঠে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি নিজেও খুঁজছি এতটা খারাপ কেন হলো। আমি নিশ্চিত আপনারা সবাই সমর্থন করবেন এটা বাংলাদেশের ক্রিকেট না। আমাদের কিন্তু এর চাইতে ভালো খেলার সামর্থ্য আছে।’
দেশের বাইরে ভিন্ন কন্ডিশনে তুলনামূলক ভালো খেলার নজির আছে বাংলাদেশ দলের। হাবিবুল বাশার বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি কিন্তু অনেক কঠিন টুর্নামেন্ট। কন্ডিশন কিন্তু সেখানেও অনেক কঠিন ছিল। ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে খেলতে হয়েছে, সেখানেও কিন্তু আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। ওই হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। তারপরও আমরা ভালো করতে পারিনি। কারণটা আসলে আমার কাছে পরিষ্কার নয়।’
ব্যর্থতার দায় নির্দিষ্ট কাউকে না দিয়ে সামগ্রিকভাবে দলের উপর বর্তাতে চান জাতীয় দলের এ নির্বাচক। গতকাল তিনি বলেন, ‘একটা জিনিস এখন আমাদের করা উচিত হবে না, খারাপ করলে একজন আরেকজনের দোষ খুঁজে বের করা। সেটা করলে আমাদের ভবিষ্যতের জন্য ভালো হবে না। যেটা করতে পারি, সামনে আমাদের শ্রীলঙ্কা সিরিজ ও বিপিএল আছে, এর মধ্যে কোথায় ভুল করেছি, সেটা খুঁজে বের করতে পারি। অবশ্যই ম্যানেজমেন্ট বসবেন, কিছুতো একটা কারণ আছেই।’
ব্যাটিংয়ের চেয়েও দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের বোলিং ছিল বেশি বিবর্ণ। হাবিবুল বাশার বলেন, ‘আমরা কোনো বিভাগেই ভালো করতে পারিনি। শেষ কথা এই যে এটা আমাদের ক্রিকেট নয়। এর চাইতেও ভালো খেলার সামর্থ্য আমাদের আছে এবং আগে আরও ভালো খেলেছি। একটা সিরিজ দিয়ে বলতে পারবো না যে সামনে আর পারবো না বা খারাপ হয়ে গেছি।’
সফরের শেষান্তে একমাত্র টি-টোয়েন্টিতেই দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিল বাংলাদেশ। তবে এ ফরম্যাটেও শেষটা হয়েছে হার দিয়েই। অধিনায়ক সাকিব বলেছেন, টানা হারের প্রভাব ছিল টি-টোয়েন্টি সিরিজে। হাবিবুল বাশারও বলছেন, আত্মবিশ্বাস কমে গেছে একটানা হারতে থাকায়।
তিনি বলেন, ‘একটা টিম যখন ভালো করবে না তখন আত্মবিশ্বাস কিন্তু নেমে যায়। খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। আমার মনে হয় সেটাই হয়েছে। পুরো সিরিজে আমরা কোনো কিছুই ভালো করছিলাম না। সেটার প্রভাব পড়াটা খুবই স্বাভাবিক। টি-টোয়েন্টি তো আমাদের জন্য আরও কঠিন। ওয়ানডেতে একটা সুযোগ ছিল কিন্তু আমরা করতে পারিনি। তবে প্রথম টি-টোয়েন্টি আমরা খারাপ করিনি। কিন্তু দ্বিতীয়টিতে মিলার যে ব্যাটিং করেছে সেখানে আমাদের কিছুই করার ছিল না।’
ইত্তেফাক/কেআই