জগন্নাথপুরে হাওরে ফসল কাটার ধুম

কৃষকের মুখে স্বস্তির হাসি

 মো. আব্দুল হাই, জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা

জগন্নাথপুরে চলতি বোরো মৌসুমে হাওরে ফসল কাটার ধুম পড়েছে। কৃষক-কৃষাণিদের মুখে দেখা দিয়েছে স্বস্তির হাসি। এবার হাওরগুলোতে যে পরিমাণের ফলন তাতে আবহাওয়া অনুকূল থাকলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের ৯টি হাওরে ব্রি-২৮ জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে।

হাওরপারের কৃষক আখলিছ মিয়া জানান, ভূরাখালী, দাসনোয়াগাঁও, হরিনাকান্দি, মেঘাকান্দি, গাদিয়ালা, বেতাউকাসহ আশ-পাশের গ্রামগুলো বোরো ফসলের উপর নির্ভরশীল। অনেকেই পণ করে রেখেছেন গোলায় ধান তুলে মেয়ের বিয়ে দিবেন, ছেলেকে বিয়ে করাবেন। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ শওকত ওসমান মজুমদার ইত্তেফাককে জানান, চলতি বোরো মৌসুমে বৃহত্ নলুয়ার হাওরে ৪ হাজার ৩শ ৫০ হেক্টর, মইয়ার হাওরে ১ হাজার ৮শ ৭৫ হেক্টর, পিংলার হাওরে ১ হাজার ১শ হেক্টরসহ উপজেলার ৯টি হাওরে ২০ হাজার ৭শ ২৫ হেক্টর জমিতে ব্রি-২৮, ব্রি-২৯, ব্রি-৫০, ব্রি-৫৮, ব্রি-৫৫, বিআর-২৬সহ হাইব্রিড জাতের ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। এবারে ১ লাখ ২১ হাজার ৭শ ৭১ মেট্রিক টন ধান উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

এদিকে, সম্প্রতি বৃষ্টিপাতে ফসল রক্ষা বাঁধের আংশিক ক্ষতি হলেও তা পুনরায় মেরামত সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৪টায় ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হলে হাওরের পাকা ফসলের আংশিক ক্ষতি হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম মাসুম জানান, হাওরগুলোতে ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে এবং নলুয়া ও মইয়ার হাওর ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা আনন্দের সাথে ধান কাটা শুরু করেছেন। তিনি আরো জানান, প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে এ বছর উপজেলায় সর্বোচ্চ ধান উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা তপন চন্দ্র শীল ও  উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমীন ইত্তেফাককে জানান, হাওরগুলোতে ব্রি-২৮ জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে।