ঘোড়াশালে বাংলাদেশ জুটমিলের শ্রমিকদের মজুরি বন্ধ

বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল শিল্প এলাকার স্বনামধন্য বাংলাদেশ জুট মিলে চার সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে শ্রমিকদের মজুরি। এতে মিলের প্রায় সাড়ে চার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তার মাঝে মিল বন্ধের আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সেই সঙ্গে মিলের উত্পাদিত প্রায় ৪০ কোটি টাকা মূল্যের অবিক্রিত পাটজাত পণ্য পড়ে নষ্ট হচ্ছে মিলের গুদাম ঘরে। পণ্য বিক্রি না হওয়ায় অর্থ সংকটে পড়তে হচ্ছে মিল কর্তৃপক্ষকে। বাংলাদেশ জুট মিলের পণ্য বিক্রি করে থাকে বিজেএমসি। উত্পাদিত পণ্য বিক্রি বাবদ বিজেএমসির কাছে ৯৩ কোটি টাকা পায় বাংলাদেশ জুট মিল। কিন্তু বিজেএমসি সময়মত টাকা না দেওয়ায় শ্রমিকদের বেতন ভাতাদি দিতে পারছেন না মিল কর্তৃপক্ষ। বেতন ভাতাদি না পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে মিলের সাড়ে চার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীকে।

মিলের শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা সপ্তাহে মাত্র এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা মজুরি পান। কিন্তু একাধিক সপ্তাহের মজুরি বকেয়া থাকায় তাদের আর্থিক কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। অর্থকষ্টে দিশাহারা হয়ে পড়ছেন অধিকাংশ শ্রমিক। অনেকে মজুরি না পেয়ে মিলে আসছেন না। তারা বিকল্প অর্থসংস্থানের উত্স হিসেবে বাজার বন্দরে কাজ করে অথবা রিকশা-ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।

মিলের সিবিএ সভাপতি ইউসুফ আলী ও সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান জানান, ৫২০ তাঁতের এই জুট মিলটিতে প্রায় চার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত আছেন। এক সময় বাংলাদেশ জুট মিলটি দেশের অন্যতম লাভজনক জুট মিল ছিল। কিন্তু বিজেএমসি কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার কারণে মিলটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। বিজেএমসি টাকা না দেওয়ায় মিল কর্তৃপক্ষ চার সপ্তাহ যাবত্ শ্রমিকদের মজুরি ও এক মাস ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি দিতে পারছেন না। অপরদিকে মিলের বিদ্যুত্ বিল প্রায় ৬০ লাখ টাকা ও গ্যাস বিল সাত লাখ টাকা বকেয়া জমে গেছে। বকেয়া পরিশোধ না করার কারণে বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষ বার বার বিদ্যুত্ সংযোগ বিছিন্ন করার নোটিস দিচ্ছে। ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গত ৬ বছর যাবত্ মিলের চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটির টাকাও দিতে পারছেন না মিল কর্তৃপক্ষ। এ পর্যন্ত মিলে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটির প্রায় ২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ জুট মিলের কাছে পাট ব্যবসায়ীরা ২২ কোটি টাকা পাওনা থাকায় এখন পাটও সরবরাহ করছে না ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ জুটমিলের মহাব্যবস্থাপক মোঃ গোলাম রব্বানীর সঙ্গে কথা বললে তিনি বিজেএমসির অনুমতি ব্যতীত কথা বলতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন।

ইত্তেফাক/নূহু