কপোতাক্ষ নদের ওপর বন্ধ সেতুর কাজ শুরুর দাবি

পাইকগাছাবাসীর প্রত্যাশিত সাতক্ষীরার কানাইদিয়া ও খুলনার কপিলমুনির সংযোগ সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবিতে খুলনার বাণিজ্যিক শহর কপিলমুনিতে সভা সেমিনার চলছে নিয়মিত। দীর্ঘদিনের চাওয়া খুলনা-সাতক্ষীরার মিলন স্থলে কপিলমুনি-কানাইদিয়াবাসীর বহু প্রত্যাশিত সেতু কপোতাক্ষ নদে শত বছরেও সেতু নির্মাণ না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। অথচ এ সেতু নির্মাণ হলে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর ও খুলনার কপিলমুনি পাইকগাছার ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার বৃদ্ধি পেয়ে ঐ এলাকার দৃশ্যপট পাল্টে যেত।

উপজেলার কপিলমুনি বাজারের হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান এবং সেতু বাস্তবায়নের আহ্বায়ক মো. কওসার আলী জোয়াদ্দারের সভাপতিত্বে আ. রাজ্জাক রাজুর পরিচালনায় কপিলমুনি প্রেসক্লাব চত্বরে শনিবার হতে সপ্তাহব্যাপী এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সেতু বাস্তবায়নের ডাক দিয়েছেন। উক্ত কানাইদিয়া-কপিলমুনির সেতু বাস্তবায়নে বক্তারা বলেন, ১৯৯৭-৯৮ অর্থ বছরে কপোতাক্ষ নদের ওপরে ১৪২ মিটার কপিলমুনি-কানাইদিয়া সংযোগ সেতু নির্মাণে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কাজ পান এন হক অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাডভোকেট শেখ মো. নুরুল হক। সেতু নির্মাণে ব্যয় এক কোটি ৯৩ লাখ ৪২ হাজার ৯১৯ টাকা ধার্য করা হয়েছিল। যা পরবর্তীতে বৃদ্ধি পেয়ে দুই কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ঐ প্রতিষ্ঠানটি কিছু কাজ করে চলে যায়। ফলে দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশিত দুইপাড়ের মানুষের আনন্দের মাঝে আবার ভাটা পড়ে যায়। পরে অসমাপ্ত সেতুর নির্মাণ কাজ পেয়েছিল খুলনার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইসলাম টেড্রার্স। কিন্তু কিছু দিন কাজ করে ঐ প্রতিষ্ঠানটি চলে যায়। আর সে থেকে আজ পর্যন্ত ঐ সেতুর কাজ বন্ধ রয়েছে।

খুলনার পাইকগাছা-কয়রার সংসদ আলহাজ শেখ নুরুল হক বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর আবারো শুরু করতে চাই ঐ সেতুর কাজ। কপিলমুনির বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সরদার গোলাম মোস্তফা বলেন, সেতুর কাজ তো পূর্বে ১৬ ভাগের ৬ ভাগ হয়ে গেছে।

কানাইদিয়ার চেয়ারম্যান মফিদুল হক লিটু বলেন, জনগণের সুবিধা অনুযায়ী সেতু হোক নির্দিষ্ট স্থানে।

ডা. বিপুল হালদার বলেন, ঠেলাঠেলি না করে দীর্ঘদিনের চাওয়া সেতুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হোক সবার কল্যাণে।

চেয়ারম্যান কওসার আলী জোয়াদ্দার বলেন, বাণিজ্যিক শহর কপিলমুনির কথা ভেবেই সাবেক ও বর্তমান সংসদ শেখ মো. নুরুল হক সাহেব এ সেতু করার উদ্যোগ নিয়েছিল। এখানেই কপিলমুনিতে বাস্তবায়িত হোক।

ইত্তেফাক/নূহু