আজ বিচার বিভাগ পৃথককরণ দিবস

 
আজ বুধবার বিচার বিভাগ পৃথককরণ দিবস। ২০০৭ সালে ১ নভেম্বর শুরু হয় বিচার বিভাগ পৃথককরণের যাত্রা। সেটি আজ বুধবার দশম বছরে পদার্পণ করল। নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হলেও এখনো অবকাঠামো ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হয়নি। এজলাস সংকটের কারণে নিম্ন আদালতের অনেক বিচারকরা পুরো কর্মঘণ্টা বিচার কাজে ব্যয় করতে পারছেন না। একই এজলাস সহকর্মী বিচারকের সঙ্গে ভাগাভাগি করে বিচার কাজে অংশ নিচ্ছেন। যার প্রভাব পড়ছে মামলা নিষ্পত্তিতে।
 
সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের আদালতসমূহে ৩২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে সব জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ সকল প্রকার ট্রাইব্যুনাল, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ২৭ লাখ ৫৩ হাজার ৮৯০টি। আর উচ্চ আদালতে রয়েছে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৯টি মামলা। এই সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৬১টি। মামলা দায়ের ও পুনরুজ্জীবিত হয়েছে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৬টি। প্রসঙ্গত ২০১৬ সালে আদালতসমূহে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিলো ৩১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৭৮টি। ওই বছর নিষ্পত্তি হয়েছে ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫৬৩টি। আর মামলা দায়ের ও পুনরুজ্জীবিত হয়েছে ১৪ লাখ ৫ হাজার ২টি। ২০১৫ সালে ছিলো ৩১ লাখ ৯ হাজার ১৭৩টি। ওই বছরে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৪ লাখ ২৬ হাজার ৬৭৬টি। আর দায়ের ও পুনরুজ্জীবিত হয়েছে ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৫০২টি।
 
মাসদার হোসেন বনাম সরকার মামলার রায়ে ১৯৯৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বিচার বিভাগ পৃথককরণ সংক্রান্ত ১২ দফা নির্দেশনা দেয়। ৯৯ সালে মূল রায় দেওয়ার পর এমনিভাবে সুপ্রিম কোর্ট আট বছর ধরে রায় বাস্তবায়নের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। সর্বশেষ জরুরি সরকারের আমলে  ২০০৭ সালে রাষ্ট্রপতির এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচার বিভাগ পৃথককরণ সংক্রান্ত বিধিমালা কার্যকর করা হয়। ২০০৭ সালে ১ নভেম্বর এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচার বিভাগ পৃথককরণের যাত্রা। নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হলেও এখনো প্রতিষ্ঠা পায়নি পৃথক সচিবালয়।
 
ইত্তেফাক/এমআর