আজিজার মৃত্যু নিয়ে নতুন তথ্য

 
স্কুলছাত্রী আজিজার মৃত্যু নিয়ে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ সুপার আমেনা বেগম বুধবার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ কথা জানান।  
 
পুলিশ সুপার তার লিখিত বক্তব্যে জানান, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনার দিন ২৭ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে আজিজার প্রেমিক রোমান, তার বন্ধু সুজন ও রেজাউলকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জানা যায়, আজিজা প্রেমিক রোমানের সাথে দেখা করার জন্য ঘটনার দিন দুপুরে নরসিংদীতে আসে। নরসিংদীর স্লুইসগেট এলাকায় রোমানের সাথে মিলিত হয় আজিজা। আগে থেকে রোমান তার বন্ধু সজিব ওখানে অপেক্ষা করছিল। আজিজা রোমানকে জানায় তার বাবা তার জন্য বিয়ে ঠিক করেছে। কিন্তু সে এ বিয়েতে রাজি নয় এবং বাড়ি যেতে চায় না। তাই আপাতত মাস তিনেকের জন্য তাকে ঘরভাড়া করে দেয়ার অনুরোধ করে। 
 
কিন্তু আজিজার হাতে থাকা ৫ হাজার টাকা ও ৩টি মোবাইল ফোন দেখে রোমানের লোভ হয়। তাই রোমান, বন্ধু রেজাউল, সুমন ও সজিব মিলে আজিজার টাকা ও ফোন ছিনিয়ে নেয়ার ফন্দি আটে। রোমান ২শ' টাকার বিনিময়ে কিছুক্ষণের জন্য একটি রুম ভাড়া করে আজিজাকে সেখানে নিয়ে যায়। পরিকল্পনা মাফিক রোমান-আজিজার শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে। ভিডিও ফুটেজ আজিজাকে দেখিয়ে ৫ হাজার টাকা ও মোবাইল সেট দিতে বলে এবং তার পরিবার থেকে আরো ১ লাখ টাকা দাবি করে। অন্যথায় ভিডিও ফুটেজ নেটে ছেড়ে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়। পরে আজিজার বড় ভাইকে ফোন করে  ১লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরবর্তীতে আজিজার মা তাদেরকে ২০ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলে আজিজার কোন ক্ষতি না করার জন্য অনুরোধ করে। রোমানের বন্ধু সুজন আজিজার মাকে জানায়, কিছুক্ষণের মধ্যে আজিজাকে ছেড়ে দেয়া হবে। রাত ৮টায় আজিজাকে সিএনজিতে তার বাড়ির উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য ছেড়ে দেয়। 
 
স্থানীয় কুটিরবাজারে আজিজা নেমে মিজানুর রহমানের দোকান থেকে এক লিটার কেরসিন কিনে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। এর কিছুক্ষণ পরই বাড়ির কাছে রবি ফরাজির বাগানে দগ্ধ অবস্থা চিৎকার করতে থাকলে আশেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে। প্রথমে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ভর্তি করার পর তার মৃত্যু হয়। 
 
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হাসিবুল আলম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শিবপুর সার্কেল) রেজুয়ান আহমেদ, শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দুজ্জামান, ডিবির পরিদর্শক সাইদুর রহমান। 
 
এ পর্যন্ত আজিজা হত্যা মামলায় তার চাচি বিউটি বেগম, চাচির মা সানোয়ারা বেগম, দাদী তমুজা বেগম, প্রেমিক রোমান, তার বন্ধু সুজন ও রেজাউলসহ মোট ৬জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
 
এদিকে শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার র‌্যাব-৯  সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা থেকে গ্রেফতারকৃত বিউটি বেগম ও তার মা ছানোয়ারা বেগমকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার পর বুধবার তাদেরকে আদালতে হাজির করে ৭দিনের রিমান্ড চায়। আদালত ২দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি