ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পশ্চিম অঞ্চলের অর্ধশত গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র সড়কটির বেহাল দশা। ফল দূর্ভোগের শেষ নেই এ পথে চলাচলকারী মানুষের। সড়কটি নির্মানে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রতি দিলেও দীর্ঘদিনে তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছে অচিরেই সংস্কার কাজ শুরু হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৌর এলাকার দাড়িয়াপুর থেকে সাদেকপুর পর্যন্ত প্রায় ৮কিলোমিটার সড়ক দিয়ে সদর উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন ও পাশবর্তী নবীনগরের ২টি ইউনিয়ন সহ ৫টি ইউনিয়নের অর্ধশত গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের চলাচল করে। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে জেলা সদরে আসতে হয়। ব্যবসা বাণিজ্য শিক্ষা চিকিৎসার জন্যে হাজার হাজার মানুষের। তবে সড়কের বেশিরভাগ অংশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা। ফলে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এ পথে চলাচলকারী নারী-পুরুষ রোগী ও শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষের যেন দুর্ভোগের শেষ নেই। সংস্কারের নামে কোটি টাকা খরচ করা হলেও নিম্নমানের কাজের কারনে তার সুফল পাচ্ছে না জনগণ।
এলাকাবাসী জানায়, সড়কের বেহাল দশার কারণে যেমন ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া ব্যহত হচ্ছে তেমনি চিকিৎসা সেবা, ব্যবসা বাণিজ্যের সুবিধা পাচ্ছে না। এ পথে চলাচলকারী চালকরা জানান, এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াতে একদিকে যেমন গাড়ি নষ্ট হচ্ছে তেমনি অতিরিক্ত সময়ও লাগছে।
চিলিকুট গ্রামের কাউছার আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পর দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হলো না। আমরা দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রতি বাস্তবায়ন দেখতে চাই।
নাটাই দক্ষিন ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হক বলেন, রাস্তাটির সংস্কার কাজ করা হলেও মান সম্পন্ন কাজ না হওয়ায় রাস্তাটির এমন দশা। জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রী রাস্তাটির গুরুত্ব অনুধাবন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সফরের সময় ২০১০সালে সরকারী কলেজ মাঠের জনসভায় তিনি সড়কটির পোষ্ট অফিস মোড় থেকে খারঘর গণকবর পর্যন্ত রাস্তার নির্মানের প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন। আমরা আশা করব বর্তমান সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর যত প্রতিশ্রতি আছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো: আব্দুল রাজ্জাক বলেন, আগামী দু মাসের মধ্যে ৪কিলোমিটার রাস্তার ১কোটি ৫৭লক্ষ টাকা ব্যায়ে সংস্কার কাজ শুরু হবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বিষয়টি আমরা এখনো কোন নির্দেশনা পাইনি।
এদিকে সংস্কার কাজের নামে হরিলুট প্রকল্প বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রত প্রকল্পটি দ্রুত পুনঃ নির্মানের কাজ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।
ইত্তেফাক/নূহু