সিদ্ধিরগঞ্জের পঙ্গু তোফাজ্জল মাশরুম চাষ করে এখন স্বাবলম্বী। ২০০৬ সালের কথা। মাত্র ১৬শ টাকা বিনিয়োগ করে মাশরুম চাষ শুরু করেন তিনি। এখন তাঁর পুঁজি ১৬ লাখ টাকা। এই পুঁজি মাশরুম চাষের লাভের টাকা থেকেই।
২০১৩ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তোফাজ্জল হোসেন ডান হাত হারান। তাঁর চিকিৎসায় প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ হয়। তবুও তিনি মনোবল হারাননি, ছাড়েননি মাশরুম চাষ। বরং তার দৃঢ় মানসিকতার কারণে দিন দিন তার প্রকল্প বড় হয়। এক হাত দিয়েই মাশরুম চাষাবাদ করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে জীবনধারণ করছেন তিনি। তার প্রতিষ্ঠানে ২ জন কর্মচারী কাজ করে। পঙ্গু হওয়ার পর আগের মত পরিশ্রম করতে পারলেও অন্যের কাছে হাত পাতেননি তিনি।
প্রতিবেশী বাপ্পী সরকার জানান, তোফাজ্জল পঙ্গু হওয়ার পর তার মাশরুম চাষ অব্যাহত থাকবে এটা আমাদের ধারণা ছিল না। তার মতো অনেক মানুষকে অন্যের কাছে হাত পেতে চলতে দেখেছি। কিন্তু দৃঢ় মানসিকতায় আজ সে স্বাবলম্বী। তার থেকে সমাজের বেকার যুবকদের অনেক কিছু শেখার আছে।
তোফাজ্জল হোসেন (৩৮) সিদ্ধিরগঞ্জ থানার জালকুঁড়ি পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। পিতার নাম মোহর আলী। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তোফাজ্জল সবার ছোট। আজ থেকে ১৭ বছর আগে বিদেশে গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে দেশে ফেরত আসেন। পরে সাভার কৃষি সম্প্রসারণ কেন্দ্রীয় অধিদফতর থেকে মাশরুম চাষের উপর তিন দিনের একটি প্রশিক্ষণ নেন। পরে সাভার থেকে চারা এনে শুরু করেন মাশরুম চাষ। ধীরে ধীরে তিনি পরিধিও বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে ২টি কক্ষে মাশরুম চাষ করছেন।
শুধু মাশরুম চাষেই সীমাবদ্ধ নন তিনি। এর আয় থেকে তিনি একটি তুর্কি মুরগি খামার, ফার্মেসি ও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শেয়ার মালিক হয়েছেন। বর্তমানে তাঁর বাগানে তিন হাজার মাশরুমের চারা রয়েছে। তার সাত হাজার মাশরুমের চারা রাখার জায়গা আছে। মাশরুমের চারা ও স্পনও বিক্রি করছেন তিনি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন পূর্ণাঙ্গ মাশরুম, মাশরুমের চারা কিনতে তোফাজ্জলের বাড়িতে আসছেন। আর এ থেকে প্রতিমাসে তাঁর আয় ৪০-৪৫ হাজার টাকা। প্রতিদিন বাগান থেকে ২৫-৩০ কেজি পূর্ণাঙ্গ মাশরুম বিক্রি করতে পারেন।
মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে কথা হয় তোফাজ্জলের সাথে। তিনি জানান, তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও নারায়ণগঞ্জ শহরে মাশরুম বিক্রি করেন। চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন হোটেল মাশরুমের প্রধান ক্রেতা।
ইত্তেফাক/এমআর