ইত্তেফাক রিপোর্ট
ধীরগতিতে চলছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম। ডেপুটি গভর্নর (ডিজি) সংকটের কারণেই এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। ফলে এর প্রভাব পড়ছে দেশের গোটা আর্থিক খাতে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি সরকার ও দেশের সাধারণ মানুষের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও ভাটা পড়েছে। ব্যাংকিং খাতে নানা বিশৃঙ্খলাও দেখা যাচ্ছে। শিল্প-বাণিজ্যেও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। খোদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধিকাংশ কর্মকর্তাসহ ভুক্তভোগীরা এ সংকট সমাধানে দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৫৩টি বিভাগ, ১০টি শাখা অফিস এবং একটি প্রধান কার্যালয় রয়েছে। এতগুলো বিভাগের দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করার পাশাপাশি সরকারি ব্যাংকগুলোয় কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া, সরকারের নতুন নতুন উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করা, দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং আর্থিক খাতের ঘটে যাওয়া অনিয়মের বিচার এবং উদ্ভূত অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতি পরিচালনা করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পলিসি পর্যায়ে লোকবলের সংকট রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দুজন ডেপুটি গভর্নর ব্যাংকিং খাত পরিচালনা করছেন। ডিজি নিয়োগের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক হয়ে দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পড়ে থাকলেও এটি আলোর মুখ দেখছে না।
দেশের সিডিউল ব্যাংকের সংখ্যা ৫৯টি। নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৩৪টি। কিন্তু শীর্ষ পর্যায়ে লোকবলের অভাব থাকায় এটি ভালোভাবে সম্ভব হচ্ছে না বলে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট একজন ডিজি নিয়োগের জন্য পত্রিকায় আবেদন চেয়ে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞাপনে বলা হয়, ডিজি নিয়োগে আগ্রহী প্রার্থীরা ২৭ আগস্টের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে ডিজি পদ শূন্য হয় ১০ সেপ্টেম্বর। বিজ্ঞাপনের আলোকে মোট ১২ জন প্রার্থী আবেদন করেন। এদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৭ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। বাকিরা অংশগ্রহণ করেননি। মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মো. ইস্কান্দার মিয়া, মাসুম কামাল ভূইয়া, আব্দুর রহিম, অশোক কুমার দে, শেখ মোজাফফর হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের লিয়াকত হোসেন মণ্ডল এবং একটি বেসরকারি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোহাইমেন। পরে আরো একজন ডিজির পদ শূন্য হলেও এখন পর্যন্ত ডিজি নিয়োগ হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতবছর ১০ সেপ্টেম্তর থেকে এ বছরের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৬ মাস অতিবাহিত হলেও ডিজি নিয়োগের কোনো উদ্যোগ নেই সরকার তথা বাংলাদেশ ব্যাংকের। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ২ জন ডিজি রয়েছেন। একজন হলেন এসএম মনিরুজ্জামান ও অন্যজন আহমেদ জামাল। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ৪ জন ডিজি ছিল।