ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়পলাশবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা রেজুয়ানুল হক (৪৫)। তার মেয়ে দুবছর পর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশ নিবে। মেয়ের লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ ও মেধা দেখে মুগ্ধ রেজুয়ানুল। কিন্তু সে নিজে অশিক্ষিত। মেয়ের যোগ্য পিতা হিসাবে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ হয় তার।
তাই মেয়ের সন্মান রক্ষার জন্য এবং সমাজে শিক্ষিত মেয়ের শিক্ষিত পিতা হিসাবে পরিচয় দেওয়ার জন্য মাঝবয়সে লেখাপড়া শুরু করেছেন রেজুয়ানুল হক (৪৫)।
ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার সমিরউদ্দীন স্মৃতি মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে বাংলাদেশ কারীগরি শিক্ষা বোর্ডের অর্ধীনে নবম শ্রেণির (ভোকেশনাল) পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহন করছেন ৪৫ বছর বয়সের রেজুয়ানুল হক।
বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার বড় পলাশবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ভোকেশনাল শাখা থেকে (৯ম) শ্রেণীর পাবলিক পরীক্ষায় “৭১-ড্রেস মেকিং” ট্রেডের পরীক্ষা শেষে রেজুয়ানুল তার এই বয়সে পড়ালেখা করার কারণ এভাবেই জানাচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, আমার মেয়ে শিক্ষিত হয়ে সমাজে যেন তার শিক্ষিত পিতার পরিচয় দিতে পারে, সে কারণেই এ চেষ্টা। আমি লেখাপড়া করে অন্যদের ন্যায় দেশের উন্নয়ন কাজে অংশ নিতে চাই।
দারিদ্র্যের কারণে পড়ালেখা করার সুযোগ হয়নি রেজুয়ানুল হকের।
বালিয়াডাঙ্গি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, রেজুয়ানুলের এ বয়সে পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ আমাদের সমাজে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাকে দেখে শিক্ষার্থীরা নিজেদের লেখাপড়ার প্রতি গুরুত্ব বাড়াবেন বলে মনে করছি।
ইত্তেফাক/নূহু