জন্ম রেজিস্ট্রার বইতে নিজের নাম খুঁজে পেয়ে ভাবাবেগে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। ৬৭ বছর পর নিজের জন্মভিটা বরিশালে এসে তিনি শুক্রবার সকালে শিশুকালের স্মৃতি খুঁজতে বের হন নগরীতে।
বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমেই যান নগরীর জীবনানন্দ দাশ সড়কের ডগলাস বোর্ডিং নার্সিং হোমে (বর্তমানে সেন্ট এ্যানেস মেডিকেল সেন্টার)। এখানে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সেন্টারটির সেবিকাদের সহযোগিতায় জন্ম রেজিস্ট্রারটিতে নিজের জন্ম তারিখ খুঁজে পান ১৯৪৫ সালের ৩০ আগস্ট। জন্ম রেজিস্ট্রার হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ স্মৃতিচারণ করেন তিনি। এরপর তিনি সরকারি বরিশাল কলেজের দীর্ঘবছরের পুরনো তমাল গাছের নিচে পৌঁছে সেখানে স্ত্রীকে নিয়ে সময় কাটান। এসময় তমাল গাছের নিচে স্ত্রীকে নিয়ে নানান স্মৃতিচারণ করেন তিনি। সেখান থেকে সরকারি ব্রজমোহন কলেজ সংলগ্ন নিজের পৈতৃক ভিটায় গিয়ে খোঁজাখুঁজি করেন। সেখানে তার বড় বোনের কাছে তাদের বাড়ি থাকার কথা শুনেছিলেন তা খুঁজে বেড়ান। বড় বোনের কাছ থেকে শোনা অনুযায়ী কলেজের শহিদ মিনার গেটের বিপরীতে তার বাড়িটি ঘুরে দেখেন। তবে সেই বাড়ি দেশ ত্যাগের সময় তার পিতা বিক্রি করে দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
আধুনিক বরিশালের রূপকার অশ্বিনী কুমার দত্ত ছিলেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাদুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তার সাথে স্ত্রী নন্দীতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাংলাদেশস্থ ভারতীয় দূতাবাসের প্রেস ইনফরমেশন অ্যান্ড কালচার এটাচে রঞ্জন মণ্ডলও ছিলেন। ঢাকায় অনুষ্ঠিত সিপিএ কনফারেন্সে যোগ দিতে বাংলাদেশে আসেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
IMG0
দীর্ঘ সময় স্মৃতিচারণের পাশাপাশি তিনি এখানকার সাংবাদিকদের জানান, ১৯৫০ এর পর বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার। তখন মাত্র ৫ বছর বয়স ছিল তার। পশ্চিমবঙ্গেই তার বেড়ে ওঠা। শিশুকালে ছেড়ে যাওয়া জন্মভিটা দেখতে ৬৭ বছর পর বরিশালে ছুটে এসেছেন তিনি। দুপুরের পর তিনি আগৈলঝাড়ার গৈলা মনসা মন্দির পরিদর্শনে যান। আগৈলঝাড়ার গৈলায় পৌঁছুলে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু। বিকেলে বরিশাল মহাশ্মশান ও চারণ কবি মুকুন্দ দাশ প্রতিষ্ঠিত কালিমন্দির পরিদর্শন করেন তিনি।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিদি-বোনের সম্পর্ক। সে সম্পর্কটা বজায় থাকবে এটা আমি বিশ্বাস করি। পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের পারস্পরিক স্বার্থ বিষয়ে সেরকম কোন মতবিরোধ আছে বলে আমার মনে হয় না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি চান বাংলাদেশের মানুষ সুখে থাকুক, তারা শান্তিতে থাকুক। তাদের আপদে-বিপদে পশ্চিম-বঙ্গের সহানুভূতি, সহযোগিতা থাকবে।'
ওই সময় তিনি বলেন, 'যেহেতু বাংলাদেশে আসার আমার সুযোগ হয়েছে তাই পূর্বপুরুষদের স্মরণে বরিশাল টাউনে এসেছি। এতো স্মৃতিকথা ওদের কাছ থেকে শুনেছি যে এর আকর্ষণ বা তীব্রতায় এখানে ছুটে আসতে হয়েছে। আমার বয়োজ্যেষ্ঠরা উন্মুখ আমি এখানে কি কি দেখে গেলাম শোনার জন্য। আমার ঠাকুরদা প্রাণতোষ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বাবা প্রণতোষ বন্দ্যোপাধ্যায় বরিশাল কোর্টে প্রাকটিস করতেন। দুর্ভাগ্যবশত একটা দাঙ্গার কারণে বাংলাদেশের সকল সম্পত্তি ছেড়ে আমরা কোলকাতায় স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করি। তখন আমি খুবই ছোট ছিলাম তাই তখনকার নিজের কোন স্মৃতিই আমার মনে নেই। তিনি বলেন, 'বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকার এসেছে কিন্তু চিরকাল বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিলো। এই সম্পর্ক বজায় থাকবে আরো সুদৃঢ় হবে।'
ইত্তেফাক/জামান