ঠাকুরগাঁওয়ে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

 
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের চাপাতি গ্রামে মহসিনা (৩৮) নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। শনিবার রাতে এই ঘটনা ঘটে।
 
মহসিনার স্বামী ওই গ্রামের মৃত পজির উদ্দিনের ছেলে আলম (৪৫)। ওই রাতেই গৃহবধূ মহসিনার বাবা খামির উদ্দিন তাকে উদ্ধার ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
 
ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক তোজাম্মেল হোসেন জানান, গৃহবধূর হাতে, পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাছাড়া ওই গৃহবধূ নির্যাতনের ফলে মানসিকভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন হয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ্য করেন।
 
গৃহবধূর বাবা খামির উদ্দিন বলেন, আলম প্রথম বউয়ের অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করলে আমার মেয়ে মহসিনা তা মেনে নিতে পারেনি। ফলে প্রায় সময় মহসিনাকে তার স্বামী আলম শারীরিক, মানসিক ও পাশবিক নির্যাতন করতো। আলম এক সময় নির্যাতনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে আমার মেয়েকে মানসিক রোগী বানিয়ে দেয় ও প্রতিবেশীদের কাছে পাগল বলে প্রচারণা করে। ফলে মহসিনা আমার (বাবার) বাড়িতে পালিয়ে আসে। অনেকদিন চিকিৎসার পর সে সুস্থ হয়। এরই মাঝে আলমের দ্বিতীয় স্ত্রী মেহেরুন বাড়ি থেকে চলে যায়। নাতি-নাতনীদের অনুরোধে কয়েক বছর আগে মহসিনাকে আবার আলমের বাড়িতে পাঠিয়ে দেই।
 
তিনি আরও বলেন, হঠাৎ গত ১৫ দিন আগে আলম সেই দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে আবার নিয়ে আসে। এ নিয়ে মহসিনার সাথে চলে আবারো বিরোধ। গত ১০ দিন ধরে ঘরে আটকে রেখে মহসিনাকে নির্যাতন করে আলম। প্রতিবেশীর খবর পেয়ে মহসিনাকে আনতে গেলে আলম রাজি হয়নি। পরে থানায় অভিযোগ করে পুলিশের মাধ্যমে মহসিনাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি।
 
চাপাতি গ্রামের ইউপি সদস্য তফিজুল ইসলাম বলেন, আলম দীর্ঘদিন ধরে প্রথম স্ত্রীকে নির্যাতন করে আসছে। এ নিয়ে একাধিকবার শালিস-বৈঠকে তাকে সর্তক করা হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে আবারো নির্যাতন শুরু করে। শনিবার থানার মাধ্যমে উদ্ধার করে মহসিনাকে হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়া হয়।
 
হাসপাতালে ভর্তি গৃহবধূ মহসিনা জানান, আমার স্বামী আমাকে দীর্ঘদিন নির্যাতন করে সবার কাছে পাগল বানিয়ে রেখেছে। সে আবার তার আগের স্ত্রী মেহেরুনকে বিচ্ছেদের পরেও অন্য স্বামীর ঘর থেকে পালিয়ে বাসায় এনেছে। শুক্রবার আমার হাত-পা বেঁধে খুবই মারপিট করে। মাথায় আঘাত করলে অজ্ঞান হয়ে যাই। পরে আমার বাবা উদ্ধার করে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছে।
 
গৃহবধূর স্বামী আলম নির্যাতনের কথা স্বীকার করে বলেন, মহসিনা দীর্ঘদিন যাবত পাগল। মাঝে মধ্যে সে পাগলামি করে বাড়ি থেকে চলে যায়। দুই দিন আগে ফোনে আমার বিরুদ্ধে তার বাবার বাড়িতে অভিযোগ করলে কিছুটা মারপিট করি। দ্বিতীয় স্ত্রী মেহরুনকে আবার পালিয়ে নিয়ে আসার কথা বললে আলম এড়িয়ে যান।
 
রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার জানান, নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আলমকে থানায় ডেকে পরবর্তীতে নির্যাতনের বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়। সে সময় মহসিনাকে চিকিৎসার জন্য তার বাবা খামির উদ্দিনের কাছে তুলে দেওয়ার কথা বলা হয় আলমকে।
 
ইত্তেফাক/জামান