ভারতে ভোটযুদ্ধ শুরু হচ্ছে কাল

বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে ভোটযুদ্ধ শুরু হচ্ছে। সাত পর্বের নির্বাচনের প্রথম ধাপে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ২০ রাজ্যের ৯১ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। গতকাল বিকাল পাঁচটার পর থেকে এসব আসনে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়েছে। সাত ধাপে মোট ৫৪৩ আসনে জয়ের জন্য লড়বেন প্রার্থীরা। সরকার গড়তে দল বা জোটকে ২৭২ আসন পেতে হবে। নির্বাচন শুরুর দুই দিন আগে করা চারটি জরিপের ফল বলছে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট এবারের নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পেতে পারে। ৫৪৩ আসনের মধ্যে ২৭৩ আসনে জয় পেতে পারে তারা।

এদিকে রাজনৈতিক নেতারা প্রথম ধাপের ভোটের আগে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন ভোটারদেরকে বিজেপিতে ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নতুন ভোটাররা বিজেপিকে ভোট দিলে দেশ শক্তিশালী হবে।

এবার ভারতে প্রায় সাড়ে আট কোটি নতুন ভোটার প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি শুধু চোর নন, ভীতুও। তার সব স্কিম ধনী ব্যবসায়ীদের কল্যাণের জন্য। আর তিনি সরাসরি বিতর্কে বসতে ভয় পান। নরেন্দ্র মোদিকে উন্মুক্ত বিতর্কের জন্য তিনটি ইস্যু উল্লেখ করেছেন রাহুল। আর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সেনাবাহিনী নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছেন নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির বিরুদ্ধে।

আগামীকাল ২০ রাজ্যের ৯১ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশ, অরুণাচল, আসাম, বিহার, ছত্তিশগড়, জম্মু ও কাশ্মির, মহারাষ্ট্র, মনিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ওড়িশা, সিকিম, তেলেঙ্গানা, ত্রিপুরা, উত্তরখন্ড, পশ্চিমবঙ্গ, আন্দামান-নিকোবার দ্বীপপুঞ্জ এবং লক্ষ্যদ্বীপের এই আসনগুলোতে গতকাল প্রচারণা শেষ হয়েছে। এদিন ১০টি রাজ্য ও ইউনিয়ন টেরিটরির সব লোকসভা আসনে ভোট গ্রহণ শেষ হবে। পশ্চিবঙ্গের ৪২ আসনে সাত দফায়ই ভোট গ্রহণ হবে। প্রথম দফায় ২টিতে কাল ভোট হবে। আর সবচেয়ে জনবহুল উত্তর প্রদেশের ৮০ আসনের ৮টিতে ভোট গ্রহণ হবে। এবারের নির্বাচনে ৯০ কোটি ভোটার ভোট দেবেন।

এবারের লোকসভা নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ভালো অবস্থানে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি। গতকাল প্রকাশিত চারটি জরিপের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। এবার তারা ২৭৩ আসনে জয় পেতে পারে। গত লোকসভা নির্বাচনে এই জোট ৩৩০ আসনে জয় পেয়েছিল।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, গত চারদিনে করা জরিপে দেখা গেছে পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতীয় বিমান বাহিনীর হামলার পর মোদির জনপ্রিয়তা বেড়েছে। সিভোটার জরিপে বলা হয়েছে, এনডিএ জোট ২৬৭ আসনে জয় পাবে, আর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ ১৪২ আসন পাবে। বাকি দলগুলো ১৩৪ আসনে জয়ী হবে। ইন্ডিয়া টিভি-সিএনএক্স-এর জরিপে এনডিএ ২৭৫, ইউপিএ ১৪৭, অন্যান্য ১২১, সিএসডিএস-লোকনীতি জরিপে এনডিএ ২৬৩-২৮৩, ইউপিএ ১১৫-১৩৫, অন্যান্য ১৩০-১৬০ এবং টাইমস নাও-ভিএমআর জরিপে বলা হয়েছে, এনডিএ ২৭৯, ইউপিএ ১৪৯ এবং অন্যান্য ১১৫ আসনে জয়ী হতে পারে। তবে জরিপই শেষ কথা নয়। কোন দল জিতবে তা জানা যাবে ২৩ মে ভোট গণনার দিন।

নতুন ভোটারদের ভোট দেওয়ার আহবান মোদির

ভারতে এবার প্রায় সাড়ে আট কোটি নতুন ভোটার ভোট দেবেন। নির্বাচনে নতুন ভোটাররা বড় নিয়মক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাই নির্বাচন শুরুর দুই দিন আগে নতুন ভোটারদের ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি বলেছেন, নতুন ভোটাররা বিজেপিকে ভোট দিলে দেশ শক্তিশালী হবে। তাদের প্রথম ভোট সবাইকে বাড়ি পেতে সাহায্য করবে। মহারাষ্ট্রের লাতুরের জনসভায় তিনি বলেন,  কাশ্মিরের পুলওয়ামায় শহীদ জওয়ান এবং পাকিস্তানের বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইক করা সেনাদের জন্য নতুন ভোটাররা বিজেপিতে ভোট দিন। 

ভোটের আগে রাফায়েল কেলেঙ্কারি নিয়ে রাহুল গান্ধীর অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, আসলে বাবা রাজীব গান্ধীর বোফর্স? কেলেঙ্কারির দাগ মোছার চেষ্টায় এটা করা হচ্ছে। নিউজ এইট্টিন নেটওয়ার্ককে দেওয়া সাক্ষাত্কারে মোদি বলেন, একজন একটা মিথ্যাকে বারবার বলে সত্যের রূপ দিতে চাইছে। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে।

মোদি চোর, ভীতু:রাহুল

নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করে রাহুল গান্ধী বলেছেন, তিনি শুধু চোর নন, কাপুরুষ, ভীতুও। তিনি গত পাঁচ বছর ধনীদের জন্য কাজ করেছেন। দুর্নীতি নিয়ে আমি তাকে মুখোমুখি বিতর্কের আহবান জানিয়েছি। তার সাহস নেই, তিনি পালিয়ে গেছেন। আসামের হাইলাকান্দিতে এক জনসভায় দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, মোদি দুই কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নির্বাচনে জিতলে কংগ্রেস দরিদ্র পাঁচ কোটি পরিবারকে বছরে ৭২ হাজার রূপি দেবে বলেন প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।   

সেনা নিয়ে রাজনীতি করছেন মোদি:মমতা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি প্রধানমন্ত্রী মোদির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছেন, তিনি সেনাদের নিজস্ব সম্পত্তি মনে করছেন। সেনাদের নিয়ে রাজনীতি করছেন। এভাবে লাভ হবে না। সেনারা ভারতের প্রতিটি মানুষের। বিজেপি গরু নিয়ে রাজনীতি করে, কিন্তু মানুষকে রক্ষা করে না। রায়গঞ্জে এক জনসভায় মমতা বলেন, ভারতে সব আসনে শূন্য পাবেন মোদি। নির্বাচনের পর অস্তিত্ব সংকটেও ভুগতে পারে বিজেপি। তাদের ইশতেহার ভাওতাবাজি বলেও মন্তব্য করেন মমতা।