চট্টগ্রাম থেকে চুরি হওয়া দেড় লাখ লিটার ডিজেলসহ খুলনায় ‘এমটি রাইদা’ নামক একটি তেল ট্যাংকার জব্দ করেছে র্যাব-৬ এর সদস্যরা। গতকাল রবিবার সকালে নগরীর ক্রিসেন্ট জুট মিল এলাকায় ভৈরব নদী থেকে ট্যাংকারটি জব্দ করা হয়। এ সময় ট্যাংকারে থাকা সন্দেহভাজন ১৩ চোরাকারবারীকে আটক করা হয়। পরে চোরাই তেলের ক্রেতা সুমনকেও আটক করে র্যাব। এ সময় ১০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল (ডিজেল) উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৬’র স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, গত শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৬ এর সদস্যরা নগরীর খালিশপুর এলাকায় ভৈরব নদীতে তল্লাশি চালায়। রাত ২টার দিকে ক্রিসেন্ট জুট মিলের পেছনে ভৈরব নদীর মাঝখানে ‘এমটি রাইদা’ নামে একটি ট্যাংকার পাওয়া যায়। ক্রিসেন্ট জুট মিলের পেছনে ভৈরব নদের মাঝখানে নোঙর করা রয়েছে। ইতোমধ্যে ট্যাংকার থেকে তেল বিক্রি করাসহ বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ট্যাংকারে থাকা সন্দেহভাজন ১৩ চোরকারবারিকে র্যাব হেফাজতে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদে ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে চুরি হওয়া তেল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এরপর চোরাই তেলের ক্রেতা সুমনকে আটক করা হয়।
রবিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত ১০ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে। আটকৃকতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তেল উদ্ধার করা হচ্ছে।
IMG0
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের রাষ্ট্রয়াত্ব জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানি যমুনা অয়েল কোম্পানির প্রধান ডিপো থেকে প্রায় এক কোটি টাকার জ্বালানি তেল গায়েব করে দেয়া হয়। দু’টি জাহাজে বোঝাই করে এই তেল পরিবহন করা হয়। দেড় লাখ লিটারেরও বেশি জ্বালানি তেল দু’টি জাহাজে লোড করে পাচার করে দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ‘এমটি রাইদা’ ট্যাংকারটির ধারণ ক্ষমতা ২০ লাখ লিটার তেল। এটি গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে খুলনার উদ্দেশে রওনা দেয়। ২৭ অক্টোবর বিকাল চারটার দিকে ট্যাংকারটি খুলনায় পৌঁছায়। পরে তারা যমুনা কর্তৃপক্ষের নিকট ১৯ লাখ ৬১ হাজার লিটারের একটি চালান জমা দেয়। সোমবার এই তেল ট্যাংকার থেকে খালাস হওয়ার কথা।
যমুনা অয়েল কোম্পানির জিএম (মার্কেটিং) মীর আলী রেজা গণমাধ্যমের কাছে দুইটি জাহাজের হিসেবে গোলমাল হওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমরা লোক পাঠিয়েছি। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
ইত্তেফাক/এমআই