কুমিল্লা প্রতিনিধি
৯ মাস আগে আড়াই লাখ টাকা ঋণ করে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন বরুড়া উপজেলার খোশবাস গ্রামের রাজীব মুন্সী (২৭)। গত রবিবার মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে ছিলেন রাজীবও। রাজীবের এই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে গেছে রাজীবের মায়ের সব স্বপ্ন। সন্ধ্যায়ও কথা হয় একমাত্র সন্তানের সাথে। সন্তান হারানোর শোকে একদিকে পাগলপ্রায় এই মায়ের মাথার ওপর ঝুলছে ঋণের বোঝা। ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে ধার করা এই টাকা কীভাবে শোধ করবেন তারো কোনো কূলকিনারা নেই।
সেদিনের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে আরেকজন কুমিল্লার নবগঠিত লালমাই উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের মো. তাজুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ মহিন উদ্দিন (২৮)। বাহরাইন থেকে চলে আসার পর সাত মাস আগে মালয়েশিয়ায় যান তিনি। দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেও মা-বাবা, স্ত্রী, সন্তানদের সাথে কথা হয় মহিনের।
গত রবিবার রাতে মালয়েশিয়ার সেপাং শহরে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে পাঁচজন বাংলাদেশিসহ ১১ জন শ্রমিক নিহত হন। নিহতদের মধ্যে কুমিল্লার রাজীব ও মহিন ছাড়া বাকি দুইজনের বাড়ি চাঁদপুর ও একজনের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়।
গোলাম মোস্তফার বাড়িতে শোকের মাতম
চাটখিল ও সোনাইমুড়ি (নোয়াখালী) সংবাদদাতা, মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চাটখিলের গোলাম মোস্তফার (৩৬) বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম। মোস্তফা উপজেলার দক্ষিণ নোয়াখলা গ্রামের মোল্লা বাড়ির নুর মোহাম্মদ এর ছেলে।
সোমবার তার মৃত্যুর খবর আসলে পরিবারের লোকজনের মধ্যে হূদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। তার মা ও বাবা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। বৃদ্ধ পিতা-মাতার ব্যয়ভার বহনের জন্য মোস্তফাই ছিলেন একমাত্র অবলম্বন। স্থানীয় সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম নিহতের পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তার পরিবারের সদস্যরা মোস্তফার লাশ দ্রুত দেশে আনার দাবি জানিয়েছেন।