নির্মাণের একযুগেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখনো আলো জ্বলেনি বরিশালের বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর ল্যাম্পপোস্টে। কিন্তু সেতু দু’টি উপর ল্যাম্পপোস্টসহ বাতিও লাগানো রয়েছে। কিন্তু সে বাতি আলো দিতে পারছে না।
এ কারণে সেতু দুটির রেলিংয়ের সঙ্গে আলো প্রতিফলক কাগজ (রিফ্লেক্ট কালার পেপার) লাগিয়ে যানবাহন চালকদের সেতু দু’টির অবস্থান নিশ্চিত করা হচ্ছে। তাই সন্ধ্যার পর থেকেই ওই আলো প্রতিফলক কাগজের উপর নির্ভর করে ঝুঁকি নিয়ে সেতু দু’টি পাড় হচ্ছে যাত্রীবাহী বাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্যের যানবাহন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে প্রায় ১১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ৩৯০ মিটার দীর্ঘ দোয়ারিকা সেতু ও ২৯২ মিটার দীর্ঘ শিকারপুর সেতু। দুটির অবস্থানও খুব কাছাকাছি। এর সঙ্গে রয়েছে আরো ১১ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক। কিন্তু পুরো এলাকায় কোনো বাতির ব্যবস্থা ছাড়াই ২০০৩ সালের ১২ এপ্রিল সেতু দু’টি উদ্বোধন করা হয়। রাতে অন্ধকারে সেতু পারাপার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা থাকা সত্যেও কর্তৃপক্ষ অর্থ স্বল্পতার অজুহাত তুলে সেতু দু’টিতে কোনো আলোর ব্যবস্থা করেনি। তাছাড়া বিদ্যুতের লাইন টানাও সহজ ছিল না। এ কারণে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সেতু দু’টি রাতে ব্যবহারে ঝুঁকি নিতে হয় চালকদের। আর ঝুঁকির মধ্যে ছোটবড় বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় যানবাহন সমিতির নেতারা আবেদন নিবেদন করেও কোন সাড়া মেলেনি। উদ্বোধন থেকেই সেতু দু’টি চিহ্নিত করতে সেতুর রেলিং এর সাথে লাগানো হয় আলো প্রতিফলক কাগজ (রিফ্লেক্ট কালার পেপার)। আর এ কাগজ লাগাতে রেলিং এর পিলারের সাথে স্টিলের একটি পাত মুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ কারণে রাতে গাড়ির আলো ওই পেপারের উপর পড়লে সেতু অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়। আর বছরের পর বছর ধরে ওই আলো প্রতিফলক কাগজের উপর নির্ভর করে চলছে যানবাহন।
একাধিক যাত্রীবাহী বাস ও ভারী যানবাহনের চালকরা জানান, এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আলো প্রতিফলক কাগজের অবস্থাও ভালো নয়। বেশীরভাগ জায়গার কাগজ উঠে গেছে। চালকদের অভিযোগ বাতি না দেয়ার জন্য পাকাপোক্তভাবে আলো প্রতিফলক কাগজ লাগাতে স্টিলের পাত ব্যবহার করা হয়েছে। তাছাড়া প্রতি বছর সেতু দু’টির টোলের টাকা বৃদ্ধি করা হলেও সেতুর কোন সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়নি। ১৪ বছর পূর্বে ল্যাম্পপোষ্ট লাগানো হলেও তাতে মরিচা পড়ে গেছে। কিন্তু ওই ল্যাম্পপোস্টের বাতিতে এখন পর্যন্ত আলো দিতে পারেনি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা নামলেই সেতু এলাকায় ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেতু এলাকা ফাঁকা থাকায় এবং বাতি না জ্বলায় সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলকারীরা প্রায়ই ছিনতাইয়ের শিকার হন। মাঝে মধ্যে যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তারা আরও জানান, সেতু দু’টিতে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তাপস কুমার পাল জানান, সেতু দু’টিতে আলো জ্বালানোর জন্য অতি দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি ইচলাদী টোলপ্লাজায় নতুন করে সিসি-ক্যামেরা স্থাপনেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএম।