বিজ্ঞান মনস্ক লেখক অভিজিৎ রায়কে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরেক যুবককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। তার নাম- আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব (৩৪)। গত রবিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান।
মাসুদুর রহমান আরও জানান, গ্রেফতার হওয়া সোহেল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের গোয়েন্দা শাখার একজন সদস্য। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে বলেছে, তাদের সংগঠনের বড় ভাই জিয়ার (মেজর জিয়া) নির্দেশে সে ওই হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল। অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের পর সিসিটিভি ভিডিও পর্যালোচনা করে যাদের চিহ্নিত করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে সোহেলও ছিল।
কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের এডিসি জাহিদুল ইসলাম জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় হত্যা অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের সময় সোহেল ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিল। গত বছরের ২১ আগস্ট আবু সিদ্দিক সোহেলসহ ছয়জনের ছবি প্রকাশ করে তাদের ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ফারাবী শফিউর রহমানসহ আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে তাদের কাছ থেকে অভিজিৎ হত্যা মামলা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কোনও তথ্য পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের শীর্ষ নেতা ও সামরিক কমান্ডার মেজর জিয়ার নির্দেশে সে অভিজিত হত্যায় অংশ নিয়েছিল বলে জানিয়েছে।
২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে একুশে বইমেলা চলাকালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কাছে ফুটপাতে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অভিজিৎ রায়কে। হত্যাকাণ্ডের ‘প্রধান সন্দেহভাজন’ মুকুল রানা ওরফে শরিফুল খিলগাঁওয়ে গত বছরের ১৯ জুন পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।
ইত্তেফাক/এমআই