জুয়া খেলায় বাঁধা দেওয়ায় কিশোর খুন

 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জুয়া খেলায় বাঁধা দেওয়ায় দেলোয়ার হোসেন হৃদয় (১৬) নামে এক কিশোরকে খুন করা হয়েছে। রবিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। 
 
দেলোয়ার শহরের হাসপাতাল রোডের ফুল ব্যবসায়ী ইউনুস মিয়ার ছেলে। 
 
এদিকে হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে সোমবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। অভিযুক্ত প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 
 
জানা যায়, রবিবার রাতে পূর্ব মেড্ডা মসজিদ এলাকায় ৩ দিনব্যাপী তফসির মাহফিল চলছিল। রাতে ওই এলাকার স্থানীয় জুলা বাড়ির ছিব্বাতুল্লাহ ও তার সহযোগীরা ডিম দিয়ে এক ধরনের জুয়া খেলা পরিচালনা করছিল। এসময় তছসির মাহফিলের স্বেচ্ছাসেবী দেলোয়ার হোসেন হৃদয় তাদের খেলতে বাঁধা দেন। এসময় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। 
 
এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে মসজিদ মাঠ এলাকার গেইটে দেলোয়ার হোসেন হৃদয়কে ছুরিকাঘাত করে ছিব্বাতুল্লাহ। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাইজুর রহমান ফয়েজ মৃত ঘোষণা করেন। 
 
ফাইজুর রহমান ফয়েজ জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে রাহাত (১৮) ও জুনায়েদ (১৮) নামে অপর দুই যুবক ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়। রাতেই তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 
 
এদিকে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত দেলোয়ার হোসেন হৃদয়ের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সোমবার শহরে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। ক্ষুব্দ এলাকাবাসী সকালে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে। 
 
নিহতের চাচা দানিশ মিয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা শ্রমিক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান, শাহজাহানসহ এলাকাবাসী। 
 
মানববন্ধনে বক্তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানান। অন্যদিকে হত্যা ঘটনার মূল অভিযুক্ত ছিব্বাতুল্লাহকে দুপুরে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ছিব্বাতুল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের পূর্ব মেড্ডা এলাকার মাজেদ আলীর ছেলে।
 
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নবীর হোসেন জানান, ছিব্বাতুল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে পালানোর চেষ্টা করছিল। তার মুঠোফোন ট্র্যাক করে ভৈরব সেতুর কাছ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। 
 
ইত্তেফাক/আরকেজি