অশ্রুসিক্ত নয়নে সোহেলকে চিরবিদায়

সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমইএচ) হিমঘর থেকে ফায়ারম্যান সোহেল রানার মরদেহ গতকাল মঙ্গলবার সকালে তার কর্মস্থল সিদ্দিকবাজারে ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতরে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণের জন্য সহকর্মীদের সোহেলের মুখখানি শেষবারের মতো দেখানো হয়। এ সময় সহকর্মীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে সেখানকার পরিবেশ। সকাল সোয়া ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদর দফতরে সোহেলের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের      ইটনায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাড়ি পর্যন্ত তার বিদায় যাত্রায় পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনরা সঙ্গী হয়েছেন। সেখানেই দাফন হয়েছে।

সোহেলের জানাজায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার  জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন, সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমদ খান, পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইব্রাহীম খান, এনটিএমসির ডিজি জিয়াউল আহসান উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সোহেলের সর্বোচ্চ চিকিত্সা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তার জন্য সবাই দোয়া করবেন।’

কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন সোহেল রানা। এই স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার বজলুর রশীদ বলেন, ‘আমার সঙ্গে সে কাজ করত। ঘটনার দিন আমার সঙ্গেই এফআর টাওয়ারে গিয়েছিল।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি সোহেলের বাবা, মা ও ভাইয়ের মুখের দিকে তাকাতে পারছি না।’ ফায়ারম্যান হাসান বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে অনেকদিন কাজ করেছি। কখনো ভাবতে পারিনি সোহেল এত তাড়াতাড়ি আমাদের ছেড়ে চলে যাবে। সোহেল খুব ভালো ছিল।’

সোহেল রানার ছোটভাই উজ্জ্বল মিয়া বলেন, ‘আমার ভাই দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই মানুষের জন্য কাজ করতেন, পরোপকারী ছিলেন। ভাই দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, এজন্য আমরা গর্বিত। ‘আমার ভাই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে আমরা পথে বসে গেছি। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী যাতে আমাদের পরিবারের প্রতি সুদৃষ্টি দেন।’

বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আটকেপড়া লোকজনকে লেডার নিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছিলেন সোহেল। লেডারে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি লোক ওঠায় সোহেল লেডারের দাঁড়ানো জায়গা থেকে সরে সিঁড়িতে চলে আসেন। চালক যখন ছোট করে নিচের দিকে নামিয়ে নিয়ে আসছিলেন, তখন তিনি লেডারে চাপে পড়েন। এতে তার পা ও পেটে আঘাত পায়। তাকে প্রথমে কুর্মিটোলা, পরে সিএমএইচে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিত্সার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সোহেল রানার মৃত্যুতে

জেপির শোক

জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম ফায়ার ব্রিগেডের সদস্য সোহেল রানার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে জেপি নেতৃদ্বয় বলেন, সোহেল রানা তার নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অগ্নি দুর্ঘটনায় আটকে পড়া মানুষকে সাহায্য করেছেন। এটা সকলের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সোহেল রানা নিষ্ঠা ও কর্তব্য পালনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসাবে চিরদিন দুর্গত মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবে। জেপির নেতৃদ্বয় মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

অধ্যাপিকা সৈয়দা জাহেরা আশরাফের মৃত্যুতে শোক

গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় আনন্দ মোহন কলেজ ময়মনসিংহ, বদরুন্নেসা কলেজ ঢাকার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা সৈয়দা জাহেরা আশরাফ (৮৪) ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। অপরাহ্নে বনানীর ডিওএইচএস মসজিদে তার নামাজে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম অধ্যাপিকা সৈয়দা জাহেরা আশরাফের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে সাবেক মন্ত্রী বলেন, মরহুমা জাহেরা আশরাফ ছিলেন একজন নিবেদিত প্রাণ, শিক্ষিকা। তিনি সুদীর্ঘকাল বিভিন্ন সরকারি কলেজে ছাত্রীদের শিক্ষাদান করেছেন এবং আদর্শ একজন শিক্ষিকা হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। জেপির সাধারণ সম্পাদক মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।