আরো ৪৪শ’ মে.ওয়াট এলএনজি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আগ্রহী সিমেন্স

 
বাংলাদেশে আরো ৪ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের একটি এলএনজিভিত্তিক (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) বিদ্যুৎ-কেন্দ্র  স্থাপন করতে চায় জার্মান কোম্পানি সিমেন্স। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ইতোমধ্যে সিমেন্সের প্রস্তাব পর্যালোচনা করেছে। কেন্দ্র  স্থাপনের শর্ত ও এলএনজির উত্সসহ নানা কারিগরি দিক নিয়ে কোম্পানিটির সঙ্গে আলোচনা করছে পিডিবি। শিগগিরই এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। পিডিবি ও সিমেন্সের একটি যৌথ কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে বিদেশ থেকে সরাসরি এলএনজি আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করার কথা রয়েছে।
 
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, জার্মান দূতাবাসের মাধ্যমে সিমেন্স ৮ হাজার মেগাওয়াটের এলএনজি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র  স্থাপনের প্রস্তাব দেয় বিদ্যুৎ বিভাগে। তাদের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে ইতোমধ্যে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল) গত রবিবার ৩ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।
 
সিমেন্সের প্রস্তাবে প্রেক্ষিতে বাকি ৪ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কোম্পানিটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে কাজ করছে পিডিবি। এ প্রকল্পে সিমেন্স সরাসরি জার্মানের বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।  পিডিবির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, সিমেন্সের প্রস্তাব পর্যালোচনা  শেষে এখন এমওইউ সই করা বাকি। সিমেন্স ইতোমধ্যে এমওইউ’র একটি খসড়া পাঠিয়েছে। তবে পিডিবি চায় প্রকল্প স্থান মহেশখালীতে ভূমি উন্নয়নের কাজ সিমেন্সকে দিয়ে করাতে। সেই অনুযায়ী খসড়া তৈরি ও ফের পিডিবিতে পাঠাতে বলা হয়েছে। ওই খসড়া  পেলে তা বিদ্যুৎ বিভাগে নীতিগত অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশ থেকে সরাসরি এলএনজি আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। সিমেন্স তাদের প্রতিবেদনে প্রতি ইউনিটের দাম  প্রস্তাব করেছে সাত সেন্ট বা ৫ টাকা ৬০ পয়সা।
 
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সিমেন্সের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে দুইটি ভাগে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন প্রক্রিয়ার বিষয়। একটি নির্মিত হবে পটুয়াখালীর পায়রা এলাকায়। আরেকটি হবে কক্সবাজারের মহেশখালীতে। দুটি প্রকল্পে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে সিমেন্স।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর