‘চিরকুট ছাড়ার পর গানে অনেক বেশি সময় দিতে পারছি’

 
পিন্টু ঘোষ। ‘চিরকুট’ ব্যান্ড ছেড়ে এখন তিনি পরিচিত নিজস্ব পরিচয়ে। গাইছেন দেশ-বিদেশের মঞ্চে। এছাড়া কয়েকটি চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করছেন। এছাড়া শিগগিরই বড় একটা চমক নিয়ে ফিরছেন তিনি। এসব প্রসঙ্গসহ নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নুরুল করিম
 
কেমন আছেন?
ভালো আছি।
 
‘হালদা’ চলচ্চিত্রের ‘নোনা জল’ গানটি বেশ আলোচনায় এসেছে। গানটি প্রসঙ্গে বলুন—
চেষ্টা করেছি গানটি মানুষের মনে গেঁথে দেওয়ার। গানটির কথাগুলো কিন্তু বেশ সহজ-সরল এবং প্রতিটি লাইন মানুষের মনের কথা। বলা যায়, হালদা ছবির শেষ মুহূর্তে এসে গানটি করেছি। তৌকীর ভাই আমাকে গানের লিরিক্স লিখে এনে দিয়ে বললেন পিন্টু গানটি করতে হবে। আমি তখন তৌকীর ভাইকে বললাম, গানের কথায় আমি বেশকিছু পরিবর্তন আনতে চাই। গানের প্রথমদিকের যে কথাগুলো সেটা আমার লেখা। তবে গানটি করার পর অনেক ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। যারা সঙ্গীতকে ভালোবাসেন তারা গানটি অনেক পছন্দ করেছেন। এছাড়া ভিডিওটিও গানের সঙ্গে একদম মিশে গেছে।
IMG0
সাম্প্রতিক সময়ে আপনার ব্যস্ততা কী নিয়ে?
হালদার কাজ শেষ করলাম। এখন অন্তু আজাদের চলচ্চিত্র ‘আহত ফুলের গল্প’র গান নিয়ে ব্যস্ত। এছাড়া স্টেজ শোগুলো করছি। গত ৭ অক্টোবর আমেরিকার ফ্লোরিডায় গান করেছি। আমেরিকার বোস্টনেও একটা স্টেজ শো করেছি, যেখানে একই স্টেজে জিত্ গাঙ্গুলী, সারেগামার শিল্পী সবাই গেয়েছিল। জিৎ গাঙ্গুলী শো শেষে আমার গানের ভীষণ প্রশংসা করেছেন। এছাড়া থিয়েটারে ‘হ্যামলেট’, ‘রিজওয়ান’-এর মিউজিক করলাম। এই কাজগুলো খুব টাফ ছিল। অন্যরকম অভিজ্ঞতার কাজ ছিল। কিন্তু যখন সবাই প্রশংসা করতে শুরু করলেন তখন সাহস পেলাম আরও ভালো কাজ করার।
 
কোন ধরনের গান গাইছেন স্টেজে?
বিখ্যাত ফোক গানগুলো গাইছি। আমি চাই আমাদের কিংবদন্তী শিল্পীদের গাওয়া সেরা গানগুলো আবার গাইতে। ভালো গানগুলো না গাইলে অন্যায় হয়। ওনারা তো গেয়েছেনই যাতে অন্যরা তা গায়। আমিও গান করি, কেননা অন্যরা তা গাইবে। এতে সম্মান দেখানো হয়।
 
চিরকুট ছাড়ার পর আপনার ক্যারিয়ারে কী পরিবর্তন এসেছে?
অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখনকার সময়টা অনেক বেশি মিউজিক্যাল। ‘চিরকুট’ ছাড়ার পর গানে অনেক বেশি সময় দিতে পারছি। আগে মানুষ আমাকে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে একটা যন্ত্র নিয়ে গান গাইতে দেখতো, এখন বিভিন্নভাবে দেখতে পাচ্ছে, পুরো স্টেজে আমি থাকছি। তাছাড়া আমার বিভিন্ন ধরনের গান করার ইচ্ছে ছিল, সেগুলো করার স্বাধীনতা পেয়েছি। যেমন ফোক গান, ভবা পাগলা, লালন সাঁইজি, শাহ আবদুল করিমের গান গাইতে পারছি। বাংলাদেশে আসলে এত মেলোডি আছে, যা বিশ্বের অন্য কোনো দেশে নেই।
 
গান নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
অনেক পরিকল্পনাই আছে। তবে আমি এখনও পুরোদমে শুরু করিনি। এখন আমি গান করছি এটাই মানুষকে দেখাচ্ছি। শিগগিরই বড় চমক নিয়ে আসবো তখন মানুষ ভাবতেও পারবে না যে, এটা পিন্টু ঘোষ। আর আমি সম্প্রতি বেশকিছু ইন্সট্রুমেন্টাল কিনেছি, যেগুলো বাংলাদেশের আর কারও কাছে নেই। সেগুলো দিয়ে নতুন সাউন্ড কিভাবে তৈরি করা যায় সেই চেষ্টা চালাবো। আমি বিশেষ করে বাউলসঙ্গীতকে একটি আন্তর্জাতিক মাত্রা দিতে চাই।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর