‘পন্ডিত অতীশ দীপঙ্করের জন্মভূমি বিক্রমপুরের প্রত্নস্থান নাটেশ্বর দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ বৌদ্ধ সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসাবে বিশ্ব প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যে জায়গা করে নিবে। গত ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত চার মাসের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ ও খননে এখানে পিরামিড আকৃতির নান্দনিক স্তূপসহ বেশকিছু তাত্পর্যপূর্ণ প্রত্ন নিদর্শন আবিষ্কার হয়েছে।’
বিক্রমপুর তথা মুন্সীগঞ্জে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা কর্মসূচির গবেষণা পরিচালক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন। এই আয়োজনে প্রধান অতিথি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি বলেছেন, খননে বেরিয়ে আসা প্রত্ন সম্পদগুলোকে যথাযথভাবে সুরক্ষা করতে হবে। সঠিক গবেষণার মাধ্যমে এর সঠিক ইতিহাসও স্পষ্ট করতে হবে। এতে বাঙালির প্রাচীন ইতিহাস আরো সমৃদ্ধ হবে। পর্যটকদের ভিড় বাড়বে।
মুন্সীগঞ্জে বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা শীর্ষক কর্মসূচির ২য় পর্যায় আবিষ্কৃত প্রত্নবস্তু নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার নাটেশ্বরের বৌদ্ধ নগরীর পাশে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ঐতিহাসিক বল্লাল বাড়িতে খননে প্রাচীন বসতির আলামত আবিষ্কৃতসহ হরেক রকমের মৃত্পাত্র, ধাতব ও পাথরের প্রত্নবস্তু, উদ্ভিজ ও প্রাণিজ অবশেষ প্রভৃতি প্রত্নবস্তু আবিষ্কৃত হয়েছে। যা মুন্সীগঞ্জ তথা বিক্রমপুরের প্রাচীন ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করবে এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটাবে। ইতিপূর্বে আবিষ্কৃত বিভিন্ন বিষয়ও তুলে ধরা হয়। এই আয়োজনে আরো আলোচনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খন্দকার আশফাকুজ্জামন, টঙ্গীবাড়ি উপজেলা নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জগলুল হালদার ভুতু, মুন্সীগঞ্জ সদর ইউএনও ফারুক আহমেদ, টঙ্গীবাড়ি ইউএনও মোসাম্মত্ হাসিনা আক্তার প্রমুখ।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী নাটেশ্বর দেউল ও রঘুরামপুর বৌদ্ধ বিহার এলাকায় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ পরিদর্শন করেন। উল্লেখ্য, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ও অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা শীর্ষক কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০১০ সাল থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্র ঐতিহ্য অন্বেষণ বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা কাজ শুরু করে।
প্রতিমন্ত্রী পরে মুন্সীগঞ্জ শহরের ইদ্রাকপুর কেল্লা, ডিসি পার্ক ও ভাস্কর্য ‘পতাকা একাত্তর’ পরিদর্শন করেন।