সাভারে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মাদক। ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, মদ, বিয়ার, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যে সয়লাব হয়ে গেছে গোটা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন। বিশেষ করে ইয়াবার প্রকোপ এত বেশি যে, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির লোকজন এমনকি মহিলারাও এ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। কখনো ম্যানেজ করে আবার কখনো নানা কৌশলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে চলছে মাদক বিক্রি। এলাকার শত শত যুবক ভ্রাম্যমাণ মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাদের বিভিন্ন মার্কেট কিংবা শপিং মলের সামনে আনাগোনা করতে দেখা যায়।
এ চক্রটি বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝেও ইয়াবা ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ ব্যবসার সঙ্গে রাজনৈতিক দলের অনেকেই জড়িত। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে রয়েছে এদের সুসম্পর্ক। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত জেনেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে না, এমনকি উভয়পক্ষ মিলেমিশে কারবার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স পরিচয়ধারীরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলেও জানা গেছে।
মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পেশার আড়ালে দেদারসে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এ অঞ্চলে। এ চক্রটি নারীদের মাদক ব্যবসার টোপ হিসেবে ব্যবহার করছে। ইতিপূর্বে আশুলিয়া থানা মহিলা যুবলীগের আহ্বায়ক নাজমুন নাহার কাজলকে তার বাসা থেকে ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছিল আশুলিয়া এলাকার ভুয়া সাংবাদিক সারোয়ার হোসেন। সে সাংবাদিকতার লেবাসে ইয়াবা ব্যবসা করতো বলে পুলিশ জানায়। ইতিপূর্বে সাভার পৌরসভাধীন জামসিং মহল্লার একটি বিউটি পার্লার থেকে এক আইনজীবীর স্ত্রী শাহনাজ বেগম ও পার্লারের মালিক রুমানাকে ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করে ডিবি পুলিশ। এ চক্রটি বিউটি পার্লারের আড়ালে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করতো বলে ডিবি পুলিশ জানিয়েছে।
সাভার থানার ওসি (তদন্ত) সাওগাতুল আলম বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কোনো ছাড় দিবে না। মাদক একটি ব্যাধির মতো সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে। তবে এর নির্মূলে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ঢাকা জেলা ডিবির (উত্তর) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে মাদকসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক নির্মূলে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।