বেসিক ব্যাংক ঋণ কেলেংকারির মামলায় ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের আসামি না করায় উষ্মা প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চু ও পর্ষদ সদস্যদের এখনো আসামি করা হয়নি। এদেরকে শুরু থেকেই আসামি করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে দুই বছর ধরে তদন্তের নামে এদের অনেককেই পালানোর সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত ঋণ কেলেংকারির মামলার এক আসামির জামিন আবেদনের শুনানিকালে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার দুদক কৌঁসুলির উদ্দেশ্যে এসব মন্তব্য করেন।
আদালত বলেন, মামলার এজাহারে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পর্ষদের সদস্যদের নাম কেন আসেনি? ব্যাংকটির হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হলো অথচ তাদের নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত হলো না। ঋণ কেলেংকারির ঘটনায় একজন জি.এম এর চেয়ে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের দায় অনেক বেশি। আবার পর্ষদ সদস্যদের থেকে চেয়ারম্যানের দায় আরও বেশি। আপনারা (দুদক) ‘পিক এন্ড চুজ’ পদ্ধতি অবলম্বন করে আসামিদের কাউকে ধরছেন আবার কাউকে ছেড়ে দিচ্ছেন।
এ পর্যায়ে দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান আদালতকে বলেন, সকলেই আসামি হবে। দ্রুতই বেসিক ব্যাংক কেলেংকারির ৪৮টি মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হবে। সেখানে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ জড়িদের সবারই নাম থাকবে।
হাইকোর্ট বলেন, ঋণ কেলেংকারির ঘটনা অনেক হত্যাকান্ডের মত ‘ক্লু লেস অফেন্স নয়’ যে ষড়যন্ত্র প্রমাণ করতে হবে। এখানে দালিলিক প্রমাণ থাকে। ফলে তদন্তে বিষয়টি দ্রূত ধরা পড়বে। কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছি এ ধরনের ঘটনায় দুদকের মামলা দায়ের ও তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়ার পরে দুদকের উচিত ছিলো আসামিদের গ্রেপ্তার করা। কিন্তু গ্রেপ্তার করা হয়নি। আইন তো সবার জন্য সমান। নিরপেক্ষতা কিভাবে প্রমাণ করবেন সেটা আপনাদের (দুদক) বিষয়। এ পর্যায়ে দুদক কৌসুলি বলেন, ব্যাংকি খাতে দুর্নীতি একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট বেসিক ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের সাবেক জিএম কারাবন্দি মো. সেলিমের জামিন মঞ্জুর করে। এ সময় সেলিমের পক্ষে ড. শাহদীন মালিক ও এম মঞ্জুর আলম উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে বেসিক ব্যাংকের তিনটি শাখায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। এরপর তথ্য যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধান শেষে বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেংকারির ঘটনায় ৫৬টি মামলা করে দুদক। এসব মামলার কোনটিতেই ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও পর্ষদ সদস্যদের আসামি করা হয়নি।
ইত্তেফাক/এমআই