পঞ্চগড়ে পুরোহিত হত্যার দুটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

পঞ্চগড়ের আলোচিত পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর দাসাধিকারী হত্যার দুটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পুরোহিত হত্যার অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলার ১০জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন জেলা ও দায়রা জজ আবু মনসুর জিয়াউল হক। একই আদালতে পুরোহিত হত্যা মামলারও অভিযোগ গঠন করা হয়েছে বলে জানান পঞ্চগড় আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান। 
সাক্ষ্যগ্রহণের সময় আসামি জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব, আলমগীর হোসেন, রমজান আলী, খলিলুর রহমান ও হারেস আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। 
 
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দেবীগঞ্জ উপজেলার সদরের করতোয়া নদীর চীন মৈত্রী সেতু সংলগ্ন সোনাপাতা এলাকার শ্রীশ্রী সন্ত গৌড়ীয় মঠের প্রধান পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর দাসাধিকারীকে গলা কেটে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় গোপাল চন্দ্র রায় নামে এক ভক্তও গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় দেবীগঞ্জ থানায় ৩টি মামলা হয়েছে। অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা ও একটি হত্যা মামলা করা হয়। হত্যা মামলাটি দায়ের করেন নিহত যজ্ঞেশ্বরের বড় ভাই রবীন্দ্রনাথ রায়। অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দুটি করেন দেবীগঞ্জ থানার এসআই মজিবর রহমান। পুলিশ তিন মামলায় ১০জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করে ২০১৬ সালের ১৬ জুন। 
 
এরমধ্যে ১০জন আসামির মধ্যে ৪জনই বিভিন্নস্থানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছেন। হত্যাসহ ৩ মামলার চার্জশিটভুক্ত ৫ আসামি জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব, রমজান আলী, আলমগীর হোসেন, হারেজ আলী ও খলিলুর রহমান এখন জেলহাজতে রয়েছেন। অপর আসামি রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাধন ঢাকার হোলি আর্টিজেন পুলিশের অপারেশনে নিহত হন, সাদ্দাম হোসেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় ডিএমপির কাউন্টার টেরররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটিরে সাথে বন্ধুক যুদ্ধে নিহত হন, নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক নজরুল রাজশাহীতে ডিবি পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হন এবং শফিউল আলম ওরফে ডন ওরফে সোহান ময়মনসিংহে র‌্যাবের সাথে বন্ধুক যুদ্ধে নিহত হন। তবে রানা নামে অপর এক আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি