বিয়ে করতে এসে বর ও বরের বাবা কারাগারে

 
বিয়ে বাড়িতে চলছিল খাওয়া-দাওয়ার ধুম। ঠিক এমন সময়ে খবর এলো, আসছে পুলিশ ও প্রশাসন। প্রশাসনের গাড়ির আলো দেখেই পালাতে শুরু করলেন কনে, বর ও বরযাত্রীরা। থেমে গেল বিয়ের সব আয়োজন। অবশেষে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেল গাইবান্ধার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের কুমেদপুর গ্রামের এক কিশোরী। 
 
শেষ পর্যন্ত বর ও বরের বাবা পুলিশের হাতে আটক হলেন। গাইবান্ধা সদর থানায় দায়ের করা হয় মামলা। বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহনাজ আক্তার গাইবান্ধা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হৃশিকেশ রায় ফোর্স নিয়ে গিয়ে এই বাল্যবিয়ে বন্ধ করেন।
 
শাহনাজ আক্তার জানান, বুধবার রাতে মধ্য কুমেদপুর গ্রামে সফিয়াল মিয়ার ১৩ বছরের মেয়ে মোছা. সুফিয়া বেগমের বিয়ের আয়োজন চলছিল। বর পাশের সোনাইডাংগা গ্রামের মো. ময়নুল মিয়ার ছেলে সেলিম মিয়া (১৭) ও বরযাত্রীরাও হাজির। চলছে খাওয়া দাওয়া। এমন সময় রাত ১০টার দিকে মেয়ের বাড়িতে পুলিশ নিয়ে উপস্থিত হন জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা। প্রশাসনের লোক আসছে শুনে এবং গাড়ির আলো দেখে কনে ও বরযাত্রীসহ সবাই পালিয়ে যান। ঘণ্টা খানেক অভিযান চালিয়ে বাহির থেকে দরজায় তালা ঝুলানো ওই বিয়ে বাড়ির এক ঘরের দরজার তালা ভেঙ্গে খাটের নিচ থেকে আটক করা হয় বর ও বরের বাবাকে।  
 
এ ঘটনায় বল্লমঝাড় ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম ঝন্টু বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মো. শাহারিয়ার খান জানান, বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে আসামিদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি