জয়পুরহাটের কালাইয়ে 'পুলিশের মারপিটে' ব্যবসায়ী নিহতের ঘটনায় লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। নিহত ব্যবসায়ী ছাইদুর রহমানের বাবা ও মামলার বাদী কাজেম আলী পুলিশের দাখিলকৃত ময়নাতদন্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করলে জেলার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বুধবার পুনরায় লাশ ময়নাতদন্তের আদেশ দেন। আদেশে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও বাংলাদেশের যেকোন একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩ সদ্যস্যের একটি টিম যুক্ত করা হয়েছে।
আদালতে পুলিশের দাখিলকৃত ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সূত্রে জানা যায়, নিহত ব্যবসায়ী ছাইদুর রহমানের দুই হাত এবং ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কিন্তু ওই রিপোর্টে মৃত্যুর কোন কারণ উল্লেখ না করে পুলিশ দায়সারা ভাবে তথ্য দেয় আদালতে। রিপোর্ট হাতে পেয়ে হতাশ হয় ছাইদুরের পরিবার। পরে মামলার বাদী দাখিলকৃত রিপোর্টের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন। তার প্রেক্ষিতে জেলার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইকবাল বাহার এ আদেশ দেন।
নিহতের বাবা ও মামলার বাদী কাজেম আলী বলেন, ছেলের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে পুলিশ মনগড়া এবং দায়সারা তথ্য দিয়েছে। আমি আইনজীবীদের মাধ্যমে আদালতে ছেলের মরদেহ পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য আবেদন করলে বিচারক ন্যায় বিচারের স্বার্থে পুনরায় ময়নাতদন্তের আদেশ দিয়েছেন। আশা করি আমি ছেলে হত্যার বিচার পাব।
মামলার আইনজীবী উজ্জল হোসেন বলেন, ‘পুলিশের দাখিলকৃত ময়নাতদন্ত রির্পোট সন্তুজনক না হওয়ায় মামলার বাদী মঙ্গলবার আদালতে ওই রিপোর্টের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন। তার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ বিচারক বুধবার পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত: গত ৯ অক্টোবর ভোরে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার পলাতক আসামি মেহেদী হাসান শাপলাকে তার বাড়ি জেলার কালাই উপজেলার হারুঞ্জা গ্রামে ধরতে গেলে চাচা সাইদুর রহমান পুলিশের মারপিটে নিহত হন। পরে পুলিশ মনগড়া ও দায়সারা একটি ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন আদালতে। ওই ঘটনায় ব্যবসায়ীর মরদেহ ময়নাতদন্ত রিপোর্টে মৃত্যুর কোন কারণ উল্লেখ না থাকায় মামলার বাদী ও নিহতের বাবা কাজেম আলী মঙ্গলবার আদালতে নারাজি আবেদন করলে বুধবার বিজ্ঞ বিচারক ব্যবসায়ীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের আদেশ দেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি