কয়েক দিন ধরে শুরু হয়েছে হালকা শীতের আমেজ। তাই মৌসুমের শুরুতেই খেজুর রস আহরণের জন্য এলাকার গাছিরা খেজুর গাছ প্রস্তুত করতে শুরু করেছেন। হাতে দা নিয়ে ও কোমরে দড়ি বেঁধে খেজুর গাছে উঠে নিপুণ হাতে গাছ চাঁছা-ছোলা ও নলি বসানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। আর ক’দিন পরই গাছিদের মাঝে শুরু হবে খেজুর রস সংগ্রহের প্রতিযোগিতা।
মেহেরপুরে খেঁজুর বাগান সংখ্যা কম হলেও প্রায় প্রতিটি বাড়ি জমির আইল আর রাস্তার ধারে রয়েছে খেজুর গাছ। এসব গাছের খেজুর খাওয়া হয়না। মূলত রস সংগ্রহ করা হয়। খেজুর গাছ ৫-৬ বছর বয়স থেকে রস দেয়া শুরু করে। দো-আঁঁশ ও পলি মাটিতে জন্মানো গাছে বেশি রস হয়। রস আহরণের জন্য সাধারণত কার্তিক মাস থেকে গাছ প্রস্তুত শুরু করেন। রস পাওয়া যায় ফাল্গুন পর্যন্ত।
শহড়াবাড়িয়া গ্রামের পরান গাছি জানান, বছর দশেক আগেও গাছিরা ভোরে গাছ থেকে রস নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ফেরি করতেন। শীতের সকালে লোকজন রস কিনে পান করতেন আবার অনেকেই পিঠা পায়েস রান্না করতেন। গাছির পরিবারের লোকজন ব্যস্ত হয়ে পড়তেন গুড় আর পাটালী তৈরীতে। এখন আর আগের মতো গাছিরা স্বপরিবারে ব্যস্ত থাকেন না। কারণ আগের মতো আর খেজুর গাছ নেই। প্রতিবছর ইটভাটায় জ্বালানির কাজে ব্যবহারে নিধন হচ্ছে এলাকার হাজার হাজার খেজুর গাছ। আর এ গাছ থেকে এক ভাড় রসের জন্য গাছির রাতভর প্রতীক্ষা।
ইত্তেফাক/এএম।