রাউজান কদলপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন চৌধুরী লিটন নামে এক ব্যক্তিকে সন্ত্রাসীরা মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি শনিবার বেলা দুইটায় রাউজানে একটি কমিউনিটি কক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন করে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এই অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে লিটন বলেন, জীবিকার তাগিদে আমি চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করি। বিভিন্ন পারিবারিক কাজে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের রমজান আলী চৌধুরী বাড়িস্থ আমার গ্রামের বাড়িতে যতায়াত করি। গত মার্চ মাসে পারিবারিক কাজে আমার মা গ্রামে অবস্থান করাকালে এলাকার ‘চিহ্নত সন্ত্রাসী ভূমিদস্যু’ সাহাতাব চৌধুরী ওরফে ছুট্টুয়ার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী বাড়িতে এসে আমার মায়ের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে পরবর্তীতে ঘরে এসে থাকতে পারব না বলে হুমকি দেয়। পরবর্তী ২ এপ্রিল ছুট্টুয়ার নেতৃত্বে বহিরাগত কিছু সন্ত্রাসী এসে আমার বাড়িতে লুটতরাজ চালায়, শতাধিক পুরানো বৃক্ষ কেটে নিয়ে যায়, ঘরের জন্য মজুদ রাখা ইট দিয়ে প্রাচীর তোলে চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়ে আমার মাকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখে। এই বিষয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ ও মামলা করা হয়েছে। এরমধ্যে বসত ভিটা ১৪৫ ধারায় কোর্টের আদেশ জারি থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় চেয়ারম্যান নাটকীয় কায়দায় শালিশি বৈঠক নিয়ে টালবাহানা করেন। এসবকিছুর মধ্যে সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন সময় লোকাল কল সেন্টার থেকে ফোন করে পূর্বের চেয়ে বেশি চাঁদা দাবি করে এবং মামলা তুলে না নিলে মেরে ফেলার হুমকি অব্যাহত রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, ইতোপূর্বে গত ৭ নভেম্বর রাত নয়টার দিকে বাড়ি আসার পথে ফকিরের মাজার সংলগ্ন এলাকায় ১০-১২ জনের সন্ত্রাসী দল হামলা চালায়। এই সময় আমি কোন রকমে পালিয়ে গিয়ে প্রাণে বেঁচে যাই। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ইতিপূর্বে রাউজানের বিভিন্ন স্থানে জায়গার বিরোধ নিয়ে একাধিক ব্যক্তি খুন হয়েছেন। গত তিন মাসে শুধু কদলপুরেই খুন হয়েছেন দুই ব্যক্তি। আজ আমি নিরূপায় হয়ে একটি মৃত লাশ থেকে রেহায় পাওয়ার এতটুকু আশা নিয়ে সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এই ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম উদ্দিন চৌধুরী দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘এটি বসত বাড়ি সংক্রান্ত ঘটনা। এটা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। আমি চেয়েছিলাম দুইপক্ষকে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমধান করতে। কিন্তু জয়নাল তা মেনে নেয় নি। জয়নালদের বসত ভিটা সাহাতাব চৌধুরী দখল করে গাছ কেটেছে এটা ঠিক, তবে হত্যার হুমকি দিয়েছে ও চাঁদা দাবি করেছে এটা আমি শুনিনি। আর হামলার ঘটনাটিও সত্য নয়।’
এই ব্যাপারে রাউজান থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেফায়েত উল্লাহর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তাদের জায়গাজমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। তাছাড়া গত ৪ এপ্রিল জয়নাল আবেদীন তার বসতভিটা দখল হওয়ার একটি অভিযোগও করেছেন থানায়। কিন্তু তার ওপর হামলা হয়েছে এই মর্মে অভিযোগ আসলে আমরা প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করব।