কক্সবাজারে ৩ হাসপাতালকে সাড়ে ৭ লাখ জরিমানা

 
হয়রানীর হাসপাতাল হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে কক্সবাজার শহরে গজে উঠা একাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল। সরকারের কঠোর হুশিয়ারির পরও বেপরোয়া হাসপাতাল। অকারণে নানা টেস্ট থেকে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের বিল। চিকিৎসা সেবার নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানী করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নিয়মনীতি না মেনে চলে আসছে হাসপাতালগুলো। শহরের হাসপাতাল সড়কে হয়রানীর কেন্দ্রবিন্দু এসব বেসরকারি হাসপাতাল ও ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব-৭।
 
ওই অভিযানে ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতাল, সি-সাইড হাসপাতাল ও সেভরন ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সাড়ে ৭ লাখ নগদ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে র‌্যাবের অভিযান। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালগুলোতে সক্রিয় রয়েছে বড় ধরনের দালাল চক্র। দালাল চক্রের মাধ্যমে রোগীদের সরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে ঢুকিয়ে দেন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানে চলে যতসব বেআইনি কারবার। ল্যাবে চলে অবৈধ টেস্ট করে সাধারণ রোগীদের হয়রানি। যারা টেস্ট করেন সেই সব রিপোর্টে নেই কোন চিকিৎসকের স্বাক্ষর। কারণে অকারণে টেস্ট দিয়ে সর্বস্ব লুটে নেয় হাসপাতাল নামের কসাইখানাগুলো।
 
এসব হাসপাতাল ও ডায়গানস্টিক সেন্টারে স্থাপিত ল্যাবগুলোতে ভুয়া টেস্ট রিপোর্ট তৈরি, যন্ত্রপাতির মান খারাপ সহ রোগীদের টেস্ট রিপোর্ট নিয়ে জাল জালিয়াতি করে আসছে। বিশেষ করে ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতাল ও সেভরন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে রয়েছে সব চেয়ে বেশি অভিযোগ। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাবের অভিযানে ভোক্তা অধিকার আইনে বেসরকারি ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালকে ৩ লাখ নগদ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে সি-সাইড হাসপাতালকে ৫০ হাজার , সেভরণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৪ লাখ নগদ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
 
র‌্যাব-৭, কক্সবাজার এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, এর আগে গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার শহরে দুই ভুয়া ডাক্টারসহ ৬ জনকে আটকের পর বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয় র‌্যাব। এসময় ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগে ৩ লাখ ৩০ হাজার নগদ টাকা জরিমানা আদায় এবং সাতটি ডেন্টাল সার্জারি দোকান সিলগালা করা হয়েছে। এছাড়াও ভবিষ্যতের জন্য ওই সব হাসপাতালগুলোকে কঠোরভাবে সাবধান করে দেয়া হয়।
 
ইত্তেফাক/জামান