কোচিং উপভোগ করছেন জয়াবর্ধনে

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) মাহেলা জয়াবর্ধনে বেশ পুরনো মুখ। তবে, ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টটা তার জন্য একেবারেই নতুন। কারণ, এবারের আসরে তিনি থাকলেও নেই মাঠের খেলায়, আছেন ডাগ আউটে, খুলনা টাইটান্সের কোচ হয়ে। যদিও কোচিংটা তার কাছে নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়, এর আগে কাজ করেছেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল)। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে এনে দিয়েছেন শিরোপা। সেই ধারাবাহিকতায় খুলনা টাইটান্স কর্তৃপক্ষ তাকে উড়িয়ে এনেছে ঢাকায়।
 
নতুন এই ভূমিকাটা দারুণ উপভোগ করছেন সাবেক এই লঙ্কান কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান। তিনি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে চ্যালেঞ্জটা একেবারেই আলাদা। খেলোয়াড় হিসেবে আমি সময়টা উপভোগ করেছি। নির্ভার থেকেছি। কোচ হিসেবেও একই কাজ করছি। আসলে নির্ভার থেকে উপভোগ করতে পারাটাই বড় ব্যাপার। তরুণদের পথ দেখানোটা সত্যিই উপভোগের কাজ।’
 
বিপিএলের প্রথম পর্বটা খুলনা টাইটান্সের জন্য ছিল অম্লমধুর। তাতে, একটি ম্যাচ হেরে একটিতে জিতেছে তারা। যদিও, সিলেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দারুণ প্রশংসা করলেন মাহেলা। তিনি বলেন, ‘সিলেটের সময়টা আমরা উপভোগ করেছি। ওটা দারুণ একটা ভেন্যু। সবাই খুব সমর্থন করেছে। ছেলেরাও সময়টা উপভোগ করেছে। সূচনা হিসেবে ভালো ছিল। একটা এক্সাইটমেন্ট ছিল। আশা করি, একই ব্যাপার ঢাকাতেও টিকে থাকবে।’
 
ঢাকার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রমাণ করার মন্ত্র নিয়ে মাঠে নামছে খুলনা। আজ তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চিটাগাং ভাইকিংস।
 
তিনি বলেন, ‘সিলেটের ম্যাচগুলোতে অনেক রান হয়েছে। বেশ কয়েকটা ম্যাচ খুব ক্লোজ ছিল। আমার মনে হয়, গত আসরের চেয়ে এবারের টুর্নামেন্টটা অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে, বিদেশি ক্রিকেটারদের মানও ভালো। এবারের আসরটা খুব একটা সহজ হবে না কোনো দলের জন্যই। আমরা তো মাত্র দু’টো ম্যাচ খেললাম। কতদূর কী করা যাবে সেটা আরো কিছু সময় গেলে বোঝা যাবে।’
 
বিপিএলের প্রথম দিকে পাঁচজন করে বিদেশি খেলানোর নীতিমালা ছিল। গত দুই আসরে সেটা কমিয়ে চারে আনা হয়েছিল, দেশি ক্রিকেটারদের সুযোগ বাড়ানোর জন্য। তবে, এবার বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিল আবারো উল্টো পথে হেঁটেছে। প্রতিটি ম্যাচেই সুযোগ পাচ্ছেন পাঁচজন করে বিদেশি ক্রিকেটার।
 
এটা নিয়ে বিস্তর সমালোচনাও হচ্ছে। যদিও, সাবেক লঙ্কান অধিনায়ক এই সমালোচনাকে অর্থহীন বলেই মনে করছেন। তার মতে, টুর্নামেন্ট জমজমাট করতে বিদেশি খেলানোর বিকল্প নেই। একই সঙ্গে, এটাও বললেন যে, এতে করে স্থানীয় ক্রিকেটারদের মাঝেও প্রতিযোগিতা বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘এই কম্বিনেশনটা খুব দারুণ একটা সিদ্ধান্ত। এর ফলে দলগুলোর শক্তি বাড়ছে। স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিজেদের প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ বেড়ে যাচ্ছে। এখানে যে সেরা কেবল সেই খেলতে পারছে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের ১১ জন ক্রিকেটার লাগবে, ৩০ জন নয়!’
 
ইত্তেফাক/কেআই