রাজশাহীর তানোর উপজেলার সীমানাবর্তী গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল বিদ্যালয় মাঠে গতকাল শনিবার দিনব্যাপী নবান্ন উৎসব ও প্রাণ বৈচিত্র্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলা যেন রূপ নেয় এক সম্প্রীতির বন্ধনে।
স্থানীয় জনসংগঠন ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা বারসিকের উদ্যোগে মেলায় বৈচিত্র্যময় বীজ, শীতের পিঠাপুলি, নকশিকাঁথা, কৃষি কাজের ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, অচাষকৃত শাকসবজি ও ফলের ১০টি স্টলে প্রদর্শন করা হয়। সেখানে ১৬ ধরণের শস্য ফসল, ১২ ধরণের ডাল জাতীয় শস্য ও ৩৩ ধরণের কুড়িয়ে পাওয়া অচাষকৃত উদ্ভিদ উপস্থাপন করেন এলাকার কৃষক-কৃষাণীরা।
নবীন-প্রবীণ, কৃষক-কৃষাণী ও বিভিন্ন পেশাজীবীর অংশগ্রহণে কাবাডি, বালিশ খেলা, বিস্কুটদৌড়, বদন খেলা, হাড়ি খেলা, সাঁতার ও হাড়িভাঙা খেলার মধ্যদিয়ে নবান্নের প্রথম প্রহরকে বরণ করেন কৃষক-কৃষাণীরা।
মেলায় বিকেলে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী সভায় রিশিকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন গোদাগাড়ী উপজেলার চেয়ারম্যান ইসহাক আলী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বারসিকের প্রোগ্রাম কর্মকর্তা জাহিদ আলী, সহযোগী কর্মসূচী সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম শহিদ, স্বপ্নের ভেলা সংগঠনের সভাপতি সোহেল রানা, আনসার ভিডিবি ক্লাবের সভাপতি আয়নাল হক, বরেন্দ্র শিক্ষা, সংস্কৃতি রক্ষা কেন্দ্রের সভাপতি জাওয়াদ আহমেদ রাফি, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জালাল উদ্দিন, উপেন রবিদাস, অনিতা বর্মনসহ এলাকার কয়েক হাজার নারী পুরুষ।
মেলায় পুরস্কার বিতরণীর পরে শুরু হয় বরেন্দ্র অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী গান গম্ভীরা। গম্ভীরা গানে গানে এলাকার জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমস্যা ও তা থেকে করণীয় বিষয়ক তথ্য উপস্থাপন করেন পবা সাহিত্য পরিষদের সদস্যরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বরেন্দ্রে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা কেন্দ্রের সদস্য দেবশ্রী মণ্ডল ছুটু।
ইত্তেফাক/জামান