পাড়া জুড়ে আতঙ্ক আর পোড়া মাটির গন্ধ

 
বাড়ির উঠোন জুড়ে পোড়া মাটির গন্ধ। পোড়া কাপড়ের গন্ধ। বীভৎস চেহারা। চারিদিকে বেদনার প্রতিচ্ছবি। মনের মাঝে কষ্টগুলো কুঁকড়ে-কুঁকড়ে খাচ্ছে। মনটা যেন বসছে না কোন কাজে। উদাস হয়ে গেছে। গাছ-গাছালি, পশু-পাখি মানুষজন সবাই যেন কোন এক অজানা আতঙ্কে রয়েছে। কি থেকে কি হয়ে গেল। ক্ষণিকের মধ্যেই তছনছ হয়ে গেল স্বপ্ন।
 
পাতিলে রান্না করা ভাতও জানান দিচ্ছে সেদিনের ভয়াবহ স্মৃতি। অনেক কষ্টের সাজানো এ ঘরগুলো চোখের সামনে পুড়ে ছাই হল। যে কেউ দেখলেই আঁতকে ওঠবে। ওরা গরীব পরিবার। স্বল্প আয়ের লোক। দিন আনে দিন খায়। এ অবস্থায় এখন তারা নিঃস্ব। পুড়ে যাওয়া ১০ পরিবারে নতুন করে বাড়িঘর হলেও মিশবে না তাদের মনের ক্ষত। এসব দৃশ্য এখন রংপুরের গঙ্গাচড়ার ঠাকুরপাড়া গ্রামের।
 
গত শুক্রবার ফেসবুকে ওই এলাকার টিটু রায় নামের এক ব্যক্তির আপত্তিকর পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে হিন্দু পরিবারে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। এদেরই একজন সুধীর চন্দ্র। বাড়িতে তিনটি নিজের ও তার ছেলের ৩টিসহ ৬টি ঘর পুড়ে গেছে। ৩টি গরু লুট হয়েছে। সুধীর চন্দ্রের স্ত্রী দুলালী রানী বলেন, 'চুলায় ভাত চড়ইছি, এমন সময় জ্বালাজালি। ভাত খাবারও সময় পাই নাই। বাড়ির আম গাছটাও আগুনে পুড়ে গেছে। ঘরোত কোন খাবার নাই। কাপড়-চোপড় কাঁথা বালিশ খাট সবই পুড়ে গেছে।'
 
ওই ঘটনায় সুধীরের মতো অমূল্যরও ১টা গরু, ২টা ছাগল লুট হয়েছে। ঘর পুড়েছে ২টা। তাছাড়া কৈশল্যার ৪টি গরু লুট হয়েছে। এদের মতো পুড়ে যাওয়া সবার ঘরে ঘরে এখন আতঙ্কের ছাপ। আবার কখন কি হয়। 
 
ইত্তেফাক/জামান