জনপ্রিয় নাট্যকার শফিকুর রহমান শান্তনু রচিত ‘এমবিবিএস ফকির’ ও ‘মামাবাড়ির আব্দার’ নামে দুটি নাটকের শুটিং ঢাকার পূবাইলে শুরু হয়েছে। এফ জামান তাপস পরিচালিত ‘এমবিবিএস ফকির’ ও মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘মামাবাড়ির আব্দার’ নাটক দুটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছে আখম হাসান। এছাড়াও অভিনয়ে আছেন সোহান খান, কিনা রহমান, ফারজানা রিক্তা, কাজি উজ্জলসহ আরো অনেকে।
এমবিবিএস ফকির নাটকের গল্পে দেখা যাবে - এনামুল গ্রামের এমবিবিএস। মানে মা বাবার বেকার সন্তান। তাকে গ্রামের এক মুরুব্বি ধরে বলে, বাবা, তুমি নাকি কিছু করো না! এনামূল বলে, কে বলেছে চাচা? আমি তো এমবিবিএস। চাচা বলে, তাইনাকি? তাহলে আমার প্রেশারটা একটু দেখো তো। আজকাল সহজেই নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি না। এনামূল পালস দেখতে গিয়ে বলে, আপনি চাচির সাথে ঝগড়া করেন না? আর ঝগড়া করবেন না। সে ঝগড়া করতে এলে আপনি হাসবেন। যত রাগ উঠবে তত হাসবেন। আপাতত কোন ওষুধ দেব না। ৭ দিন পর আসবেন। এভাবে বোকা বানালেও এনামূলের বাবা তার ওপরে খ্যাপা। তিনি গ্রামের দুবার চেয়ার ম্যান ছিলেন। সম্ভ্রান্ত পরিবার। তার অন্য ছেলে মেয়েরা চাকরি ব্যবসা করছে। সে-ই কিছু করে না। বাবার আল্টিমেটাম শুনে সে ঠিক করে তার বাবার মতো গ্রামের মানুষের জন্য কিছু করবে। সেটা কি? ভিক্ষা বৃত্তি। গ্রামে কোন ভিক্ষুক নাই। ফলে মানুষ ভিক্ষা দিতে পারছে না। সে ভিক্ষা দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দেবে। তার কথা শুনে বাবা ক্ষেপে যায়। এনিয়ে একের পর এক মজার কাণ্ড ঘটতে থাকে। কিন্তু এনামূলের ফকির হওয়ার পেছনে একটা গোপন উদ্দেশ্য আছে।
অন্য নাটক ‘মামাবাড়ির আব্দার’ গল্পে দেখা যাবে - হারানের মামা আট মাস ধরে নিরুদ্দেশ। একদিন সকালে সে কাউকে কিছু না বলে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যায়। তার আপন বলতে আছে এক ভাগ্নে - হারান। সেও থাকে কয়েক গ্রাম পরে। কখনও মামার খোজ নেয় নি। হঠাত্ করে একদিন হারান তার স্ত্রী পারুকে নিয়ে মামাবাড়ি আসে। বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এবং বসবাস করতে শুরু করে। আশপাশে খবর রটে যায়। গ্রামে এসে সে শুরু করে সেচ্ছাচারিতার রাজত্ব। তার যন্ত্রনায় সবাই অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এসম্পর্কে নাট্যকার শফিকুর রহমান শান্তনু বলেন, ‘দুটি নাটকেই সিচুয়েশনাল কমেডির মধ্য দিয়ে দুটি শক্তিশালি সামাজিক বার্তা দেয়া হয়েছে। আশা করছি, বিনোদনের মাধ্যমে দর্শক তা উপলব্ধি করবে।’
ইত্তেফাক/এএম