বদরগঞ্জে ছাত্রদলের দুপক্ষের সংর্ঘষে আহত ২০

 
বদরগঞ্জে ছাত্রদলের কর্মী সভায় দুই গ্রুপের সংর্ঘষে প্রায় ২০জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় শতাধিক চেয়ার ভাংচুর করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তিকৃতরা হলেন ছাত্রদলের কর্মী কামরুজ্জামান শান্ত (১৭), সোহেল (২১), বেলাল হোসে (২২), আজাদ (১৭), চান মিয়া (২২) ও রাশেদুল হক (১২)। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে জেলা ও উপজেলার অতিথিরা সভাস্থল থেকে সটকে পড়েন। পরে থানা পুলিশ নিয়ন্ত্রণে আনে।   
 
জানা গেছে, রবিবার বিকেলে পৌর সভার মদিনা কমিউনিটি সেন্টারে কমিটি গঠনের লক্ষ্যে উপজেলা ও পৌর শাখা ছাত্রদলের কর্মীসভা শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মনিরুজ্জামান হিজবুল, প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শরিফ নেওয়াজ জোহা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির শাখাওয়াত হোসেন শাহান, পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ন কবির মানিক প্রমুখ। 
বিএনপির নেতাকর্মী সূত্রে জানা যায়, বিকেলে সভা শুরুর আগে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরের পক্ষে স্লোগান নিয়ে একটি গ্রুপ সভাস্থালে যায়। কিছুক্ষণ পরেই বদরগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের সভাপতি রাসেল আহমেদ বিপ্লবের পক্ষে স্লোগান নিয়ে আরেকটি গ্রুপ সভাস্থলে যায়। আনুষ্ঠানিকভাবে সভার উদ্বোধন করেন সাবেক সাংসদ অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী। এ সময় মঞ্চে উঠেন রংপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মনিরুজ্জামান হিজবুল, সাধারণ সম্পাদক শরিফ নেওয়াজ জোহা। জেলা নেতাদের শক্তি দেখাতে শুরু হয় মনির ও বিপ্লবের পক্ষে-বিপক্ষে স্লোগান। এতেই বাঁধে দুই পক্ষের সংর্ঘষ। সভা না করেই সভাস্থল ত্যাগ করেন নেতারা। 
IMG0
পৌর ছাত্রদলের সভাপতি রাসেল আহমেদ বিপ্লব অভিযোগ করেন, সভায় আমার সমর্থন বেশি ছিল। যাতে কমিটি গঠন না হয় এ কারণে মনিরের নেতৃত্বে তার লোকজন আমার নেতাকর্মীকে মারপিট করেন। এতে আমার ১৫জন সর্মথক আহত হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। 
অভিযোগ সম্পর্কে মনিরুজ্জামান মনির বলেন, আমি কোন হামলা করেনি। বিপ্লব বাহির  থেকে অছাত্র নিয়ে এসে সভা বানচাল করতে নিজেই এ হামলা চালিছেন।
এ ব্যাপারে রংপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মনিরুজ্জামান হিজবুল ও সাধারণ সম্পাদক শরিফ নেওয়াজ জোহার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা ফোন ধরেননি।
 
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুল হাই বলেন, ওই ঘটনায় হাসপাতালে পাঁচজন ভর্তি রয়েছে। বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতারুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি