চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনে দুটি বৃহত্ প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু হচ্ছে ডিসেম্বরে। আগামী এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে সাতটি খাল দখলমুক্ত করা হবে। এরপর সেগুলো পরিষ্কার ও পুনঃখনন করা হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে এসব কাজ শেষ করে বর্ষায় জলাবদ্ধ বন্দরনগরীর নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে চাইছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।
সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম গত সোমবার দুপুরে ইত্তেফাককে বলেন, দুটি প্রকল্পের মধ্যে একটি মেগা প্রকল্প। জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজটি অনেক বড়। অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান এর সঙ্গে জড়িত। সবাইকে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা আগামী এক বছরের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করেছি। আগামী বর্ষায় আশা করছি, নগরীর বেশি জলমগ্ন এলাকাগুলোতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। নাগরিকরা এই প্রকল্পের সুফল পাবেন।
তিনি জানান, সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৩৬টি বড় খালের মধ্যে সাতটি প্রধান খাল দখলমুক্ত করার কাজ ডিসেম্বর থেকেই শুরু করবে সিডিএ। এগুলো হচ্ছে মহেশখাল, চাক্তাই, রাজাখালী, হিজড়া খাল, বীর্জা, নোয়া খালা ও ইস্পাহানী খাল। ইতোমধ্যে এসব খালের সার্বিক পরিস্থিতি জরিপ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া খালের পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। এর ফলে আগামী বর্ষায় চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, দেওয়ানবাজার, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকাসহ বেশি জলমগ্ন আরো কিছু এলাকা জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে।
সিডিএ সূত্র জানায়, ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি গ্রহণ করে সিডিএ। গত ৯ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার এ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। এরপর থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজগুলো শুরু করে সিডিএ।
প্রকল্পের আওতায় বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত পাঁচটি খালের মুখে স্লুইস গেট (টাইডাল রেগুলেটর) নির্মাণ ছাড়াও নগরীতে বিদ্যমান খাল ও নালাগুলো খনন, সীমানা দেওয়াল নির্মাণ, নগরীতে জলাধার নির্মাণ, নতুন পিসি গার্ডারযুক্ত সেতু নির্মাণসহ বেশকিছু কাজ করা হবে।
বৃহত্ এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাইনুদ্দিন ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর নির্দেশে ইতোমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটির তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কমিটি অনুমোদন পেলেই প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলেই ঠিকাদার নিয়োগ হবে। ডিসেম্বরের মধ্যেই এসব কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে সিডিএ’র আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, কর্ণফুলী তীরবর্তী কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার সড়ক কাম বাঁধ নির্মাণের কাজও ডিসেম্বর মাসে পুরোদমে শুরু হচ্ছে। ১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের আওতায় কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৪ ফুট উঁচু ও ৮০ ফুট প্রশস্ত চার লেনের বাঁধ কাম সড়ক নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া নগরীর ১২টি খালের ওপর ব্রিজ তৈরি করা হবে। প্রতিটি খালের মুখে জোয়ার প্রতিরোধক রেগুলেটর এবং পাম্প স্থাপন করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়তি হলে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি নগরীর দক্ষিণ-পূর্বাংশ এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামগামী যানবাহনের জটও কমে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
ওই প্রকল্পের পরিচালক ও সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী রাজীব দাশ ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, প্রকল্পটির টেন্ডার প্রক্রিয়ার প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে কাজ করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতা যাচাই চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের তালিকা সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে পাঠানো হবে। ওই কমিটি অনুমোদন দিলেই যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হবে।
ইত্তেফাক/নূহু