দেবিদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিকল যন্ত্রপাতি খুঁড়িয়ে চলছে চিকিত্সা

চিকিত্সক সংকট ও বিকল যন্ত্রপাতিতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে গড়ে প্রতিদিন ৪০০-৫০০ রোগী চিকিত্সা নিতে আসেন। রোগী ভর্তি থাকেন গড়ে প্রতিদিন ১৫-২০ জন। কিন্তু এত রোগীকে চিকিত্সা দেওয়ার প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিত্সক ও যন্ত্রপাতি নেই এ হাসপাতালে, যা আছে তাও অধিকাংশই বিকল ও ব্যবহার অনুপযোগী।   

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার জনবল কাঠামো অনুযায়ী ২১ জন চিকিত্সক থাকার কথা। কিন্তু আছেন মাত্র ১৪ জন। এগুলোর মধ্যেও ট্রেনিং, মাতৃত্বকালীন ছুটি, সাধারণ ছুটিসহ অন্যান্য কারণে অনুপস্থিত থাকেন বেশিরভাগ চিকিত্সক।

জুনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যানেসথেসিয়া, সার্জারি, চর্ম ও যৌন, ইএনটি, চক্ষুসহ ৭টি পদ শূন্য দীর্ঘদিন। এসব রোগীদের চিকিত্সা চলে মেডিক্যাল কর্মকর্তা ও সাকমো দিয়ে। জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া) চিকিত্সা ও যন্ত্রপাতি জরুরি হলেও এই হাসপাতালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ পদটি শূন্য।

জরুরি রোগীদের চিকিত্সা দিতে ৩টি অ্যাম্বুলেন্সের একটিও নেই। প্রায় এক যুগেরও বেশি দুটি অ্যাম্বুলেন্স বিকল, এর যন্ত্রাংশও আর অবশিষ্ট নেই, বাকি একটিও চলছে না দেড় বছর। এছাড়াও, আলট্রাসনোর কোনো ব্যবস্থা নেই এ হাসপাতালে। নেই ডেন্টাল ইউনিট, হ্যালোজেন লাইটের পরিবর্তে ১০০ ওয়ার্ডের সাধারণ বাল্ব দিয়ে রোগী দেখেন ডেন্টাল চিকিত্সক। নেই যন্ত্রপাতি জীবাণু মুক্তকরণ অটোক্লেভ মেশিন, যার অভাবে হেপাটাইটিস-বিসহ হতে পারে মরণব্যাধি এইডসও।

উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এনালগ সিস্টেমের এক্স-রে মেশিনটি বালুর স্তূপে একাকার। অন্যান্য যন্ত্রপাতিগুলোও দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় মরিচা পড়ে বিকল। অপারেশন থিয়েটার কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকে মাসের ৩০ দিনই।

সরেজমিন দেখা যায়, বহির্বিভাগে রোগীদের ভিড়। দু-একটি চেম্বারে চিকিত্সক থাকলেও অধিকাংশ চেম্বারই ফাঁকা। খবর নিয়ে জানা গেছে, ছুটি, ট্রেনিং, মাতৃত্বকালীনসহ নানা ছুটিতে বেশিরভাগ চিকিত্সক।

হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড অপরিচ্ছন্ন। দুই শিফটে দুইজন সুইপার দিয়ে চলছে পরিচ্ছন্নতার কাজ। জরুরি বিভাগের পাশে ময়লা-আবর্জনা পড়ে সৃষ্টি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এতে মশা-মাছির উপদ্রবসহ বাড়ছে বিভিন্ন রোগবালাই।    

আরও অভিযোগ রয়েছে, রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার দালালচক্রের সাথে কিছু অসাধু চিকিত্সকের হাত রয়েছে যাদের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে দূর থেকে আসা রোগীরা। প্রেসক্রিপসন নিয়ে বের হওয়া মাত্রই রোগী ও তার স্বজনকে ফুসলিয়ে প্রাইভেট কোনো ক্লিনিকে নিয়ে যেতে তত্পর দালালরা। কোনো কোনো সময় পুলিশ অভিযান চালালেও দমন করা যাচ্ছে না দালালদের উত্পাত। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ রোগীদের।

কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দূর-দূরান্ত থেকে এসে সেবা না পেয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। হাসপাতাল থেকে অধিকাংশ সরকারি ওষুধই রোগীদের ভাগ্যে জোটে না।

অন্যদিকে, একটু বৃষ্টি হলেই বন্ধ হয়ে যায় হাসপাতালের জরুরিসহ ৫টি বিভাগ। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের অভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধের স্টোরসহ কয়েকটি কক্ষ তলিয়ে যায় পানিতে। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহর গভীর নলকূপটির ওয়ারিং পাইপ নষ্ট হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় ভর্তি হওয়া রোগীদের। এতে বিশুদ্ধ পানি সংকটে পড়ে বাহির থেকে কিনে পানি খেতে হয় রোগী ও স্বজনদের।   

হাসপাতালের নানাবিধ সমস্যার কথা স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ কবির বলেন, আমি ট্রেনিংয়ে আছি, ওষুধের সংকট, যন্ত্রপাতি নষ্ট ও অস্ত্রোপচার কক্ষসহ নানাবিধ সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।