চিতলমারী উপজেলার হাজার হাজার পরিবার চিংড়ি চাষের উপর নির্ভরশীল। গত দুই যুগ ধরে এলাকার চাষিরা এটি চাষ করে লাভের মুখ দেখলেও বর্তমানে তাদের লোকসানের পাল্লা ভারি হচ্ছে দিন দিন। এতে শত শত চিংড়ি চাষি এখন পথে বসতে চলেছে। ফলে এসব চাষি কেউ কেউ এখন দেনার দায়ে ঘর ছাড়া হচ্ছেন। এতে চরম হতাশায় দিন কাটছে তাদের।
স্থানীয় চিংড়ি চাষিরা জানান, চিংড়ি রপ্তানির মাধ্যমে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হয়। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এখানকার চিংড়ি চাষিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। বিদেশে রপ্তানি চিংড়ির বেশির ভাগ দক্ষিণাঞ্চল তথা এই এলাকায় চাষ হয়। এখানকার আবাদি-অনাবাদি জমিতে ঘের তৈরি করে গলদা, বাগদা ও রুই, কাতলসহ নানা জাতের মাছ চাষ করেন চাষিরা লাভবান। যার ফলে মাছ চাষের উপর এখানকার অধিকাংশ পরিবার নির্ভরশীল।
কিন্তু বর্তমানে তাদের সেই আশা ভরসা ভেস্তে যেতে বসেছে। গত কয়েক বছর ধরে পর পর বন্যা ও অতিবৃষ্টি অনাবৃষ্টিতে চিংড়ি চাষে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে প্রতিকূল আবহাওয়া ও নানা বিরূপ পরিস্থিতি তাদের সব স্বপ্ন ম্লান করে দিচ্ছে। অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজির কারণে চাষিরা চিংড়ির ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করে বিদেশে সুনাম ক্ষুণ্ন করার ফলে বিদেশি কোম্পানিগুলো এদেশের চিংড়ি ক্রয়ে আগ্রহ হারাচ্ছে। পাশাপাশি ঘেরে বিষ দিয়ে চিংড়ি চুরি ও নিধনের প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন। এলাকার অধিকাংশ ঘের মালিকের মাঝে বর্তমানে বিষ দেওয়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে। অসংখ্য ঘেরে এ বছর বিষ দিয়ে চিংড়ি নিধন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ জানান অনেকে। নানাভাবে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে চাষিদের উপর।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের কালশিরা গ্রামের চিংড়ি চাষি মিলন মণ্ডল, সাধন অধিকারী ও চরবানীয়ারী ইউনিয়নের শ্যামপাড়া গ্রামের চাষি শওকত শেখ, প্রদীপ বৈরাগীসহ অনেকে জানান, বাজারে চিংড়ি খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে দিন দিন। অথচ চিংড়ির বাজার দর একেবারে কমে যাচ্ছে, হাজার টাকা কেজি দরের চিংড়ি বর্তমানে মাত্র ছয়শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া এলাকায় বিষ দিয়ে চিংড়ি চুরি ও নিধনের যে প্রবণতা বেড়েছে তাতে করে চাষিদের বেঁচে থাকার কোনো উপায় নেই।
ইত্তেফাক/নূহু