মহেশপুরে বাড়ছে প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক স্কুল, নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ

ঝিনাইদহের মহেশপুরে সরকারী স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় রাতারাতি একের পর এক গড়ে উঠেছে প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক স্কুল। নির্মাণাধীন বসতবাড়ি, বাড়ির আঙ্গিনা, ভাড়া বাড়ি এবং কোথাও নতুন ঘর তৈরি করে ঝুলানো হচ্ছে বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড। স্কুল গুলোতে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরকারের উচ্চ মহল থেকে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করায় সমাজের এক শ্রেণির মানুষ রাতারাতি এ উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করে চলেছেন। তারা নিয়োগ কমিটি গঠন করে বিদ্যালয় গুলোতে ৭/৮ জন করে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের প্রতিবন্ধী বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণ বা ধারনা না থাকায় প্রচলিত নিয়মে তারা পাঠদান করে যাচ্ছেন। তাদের আশা সরকার প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক স্কুলগুলো শীঘ্রই সরকারীকরণ করবেন।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, উপজেলায় এসবিকে ইউনিয়নে ৩টি, ফতেপুর ইউনিয়নে ১টি, নাটিমা ইউনিয়নে ১টি, যাদবপুর ইউনিয়নে ১টি, মান্দারবাড়ীয়া ইউনিয়নে ৩টি, আজমপুর ইউনিয়নে ১টি, বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নে ১টি, নেপা ইউনিয়নে ১টি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক স্কুল নির্মাণ করা হয়েছে। এখনও কয়েকটি স্কুল নির্মাণ প্রক্রিয়ায় আছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪/৫ লাখ টাকা নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে হুদা দূর্গাপুর প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক স্কুলের সভাপতি আমির হোসেন মেম্বারের বলেন, তাদের স্কুলে ৬০ জন প্রতিবন্ধী শিশু ভর্তি হয়েছে। একজনকে প্রধান শিক্ষক এবং ছয়জনকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে নেওয়া ১১ লাখ টাকা দিয়ে ২০ শতক জমি কেনা হয়েছে এবং বাকি টাকা স্কুলের জন্য খরচ করা হচ্ছে। একটি এনজিও সংস্থার প্রতিনিধি শিক্ষকদের একদিনের প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

আরও পড়ুন: নুসরাত হত্যাচেষ্টা: মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাসহ ৩ জন রিমান্ডে

এ বিষয়ে মহেশপুর মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদ্বয় জানান, এ সম্পর্কে তাদের কিছু জানা নেই।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জুলফিকার আলী জানান, শুনেছি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। কোনো কোনো স্কুল থেকে তাদের দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এ উপজেলায় অটিস্টিক শিশু আছে ২৫ জন এবং অন্য প্রতিবন্ধী আছে কয়েকশ।

ইত্তেফাক/অনি