হাটহাজারীতে শিশু চুরির ঘটনায় থানায় মামলা, আটক ১

চট্টগ্রাম নগরী থেকে ৪ বছরের শিশু শাকিব আলম চুরি হওয়ার ঘটনায় হাটহাজারী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু হয়েছে। বুধবার দুপুরে তার মা শাহিদা বেগম বাদী হয়ে শিশু চুরির মূল হোতা পলাতক এমরানকে(২০) প্রধান আসামি, তার বোন কুলসুমা বেগমকে(৩০) ২য় ও ২জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মোট ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।

আটক আসামি কুলসুমা বেগমকে পুলিশ বুধবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করেছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, চুরি হওয়া শিশু শাকিব আলম চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন শহিদ কমান্ডারের কলোনিতে বাস করে। তার পিতা মো. সুলতান একজন রিক্সাচালক।

সোমবার পড়ন্ত বিকালে কলোনির ভেতরের মাঠে খেলার সময় শাকিব আলমকে চকোলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এমরান ও অজ্ঞাতনামা তার দুই সহযোগী তাকে চুরি করে। এ সময় এমরান ওই শিশুকে চেতনাশক দিয়ে অজ্ঞান করে হাটহাজারী উপজেলাধীন পশ্চিম ফরহাদাবাদে তার খালা মাসুদা বেগম বুলবুলির বাড়ীতে নিয়ে যায়। অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে সেখানে রেখে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

দীর্ঘক্ষণ শিশুটির জ্ঞান ফিরে না আসায় হাটহাজারী থানা পুলিশের সহযোগিতায় রাত ১১টায় প্রথমে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় শিশুটিকে। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পর মঙ্গলবার শিশুটির জ্ঞান ফিরে আসে। পরে পুলিশ কৌশলে শিশু চুরির মূল হোতা এমরানের বোন কুলসুমা বেগমকে আটক করে।

সংবাদ পেয়ে বুধবার সকালে শাকিবের পরিবার হাটহাজারী মডেল থানায় এসে তাকে শনাক্ত করে। চুরির সঙ্গে জড়িত এমরান ও কুলসুমা বেগম রাউজান উপজেলার চিকদাইর পাঠান পাড়া নুরুল হক তালুকদারের বাড়ীর নজু মিয়া সন্তান।

শাহিদা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে দৈনিক ইত্তেফাককে জানান, আমি মানুষের ঘরে কাজ করে সংসার চালাই। স্বামী একজন রিক্সা চালক। আমার ছেলেকে চুরির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

হাটহাজারী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) মো. জহির উদ্দিন বলেন, আটককৃত আসামি কুলসুমা বেগম ও উদ্ধার হওয়া শিশু শাকিব আলমকে বুধবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালত শাকিব আলমকে তার মায়ের জিম্মায় দিয়েছেন। কুলসুমা বেগমকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু