কালিহাতীতে ৩০টি বাড়ি ঘর নদীগর্ভে বিলীন

উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার বাঁশী গ্রামের কমপক্ষে ৩০টি বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে এলেঙ্গা বাজারের পশ্চিমাঞ্চল, ব্রিজ ও অর্ধ শতাধিক বাড়ি-ঘর। অপরিকল্পিত নদী খনন ও অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলেঙ্গা পৌরসভার বাঁশী ও চরবাঁশী এলাকার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা নদীর শাখা লৌহজং নদী। নদীর পূর্ব-পশ্চিম পাশের অর্ধ শতাধিক বাড়ি-ঘর অত্যন্ত হুমকির মুখে রয়েছে। যে কোনো সময় ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও বাজারের পশ্চিম পাশের নদী সংলগ্ন কয়েকটি দোকান এবং এলেঙ্গা থেকে পশ্চিমাঞ্চলে যাবার একমাত্র ব্রিজটিও রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকিতে।

জানা যায়, ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের বাড়ি-ঘর ইতোমধ্যে অর্ধেক কিংবা সম্পূর্ণ নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের শিকার অনেকেই আত্মীয়-স্বজন ও ফাঁকা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। নদী ভাঙনে এলাকার বেশকিছু স্থাপনাও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। অসহায় মানুষগুলো মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। তাদের অপরিকল্পিতভাবে নদী খনন ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা বাংলা ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। নদীর তীব্র স্রোত ও টানা প্রবল বৃষ্টিতে এই ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়।

বাঁশী গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা ডা. হাছেন আলী বলেন, নদী ভাঙ্গনের শিকার আমাদের পরিবারও। ভাঙনের কারণে আমাদের গ্রামের মানচিত্র পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙন রোধে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার জীবন জীবিকার স্বার্থে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ বলেন, ‘ড্রেজার মেশিন দিয়ে স্থানীয় জনগণ মাটি উত্তোলন করে থাকে। এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। তবে এ ব্যাপারে আমরা কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেছি। সেই সাথে বিষয়টি সমাধানকল্পে কি করা যায় খুব শীঘ্রই তার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

ইত্তেফাক/নূহু