বরিশালে পাইকারি ও খুচরা বাজার জাটকায় সয়লাব

 
ইলিশ রক্ষা অভিযানে মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের শিথিলতা থাকায়  বরিশালে প্রকাশ্যে জাটকা বিক্রি হচ্ছে। বুধবার বরিশালের পাইকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের প্রত্যেকেটি আড়তেই বিপুল সংখ্যক জাটকা বিক্রি হয়েছে প্রকাশ্যে। 
 
বুধবার সকাল ১০টার দিকে জাটকা বিক্রির খবর পেয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মহিউদ্দিন, এসআই ফজলুল হক, এএসআই মারুফসহ পুলিশ সদস্যরা পোর্টরোডের মৎস্য মোকাম থেকে জাটকাসহ কয়েকজনকে আটক করে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা আড়ত সংলগ্ন ট্রলার থেকে ৫ শ্রমিককে আটক করে। এএসআই ও কনস্টেবলদের আটক মাছ ও শ্রমিকদের দেখে রাখতে বলে দুই এসআই আড়তে ঢুকে আড়ত মালিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে। আড়ত থেকে বেড়িয়ে এসআই মহিউদ্দিন ও এসআই ফজলুল হক পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। 
 
ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় অভিযান সম্পর্কে জানতে চাইলে এসআই মহিউদ্দিন জানান, তারা মাছ ক্রয় করতে এসেছিলেন। এ সময় তাদের বহনকারী দুটি গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় বৃহৎ এ পাইকারী বাজারে শুরু হয় জাটকা ক্রয়-বিক্রয়। দিনভর সেখানে বিপুল সংখ্যক জাটকা ক্রয়-বিক্রয় হলেও মৎস্য বিভাগ কিংবা প্রশাসনের কারোর আর দেখা মেলেনি। এ পাইকারী বাজার থেকে জাটকা কিনে নগরী ও আশপাশের উপজেলার বাজারগুলোতে নিয়ে খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যে। 
 
পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সচেতন আড়ত মালিকরা জানান, প্রশাসনের কঠোর অভিযান থাকলে এভাবে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক জাটকা নিধন ও বিক্রি হতে পারতো না।  এভাবে যদি প্রতিদিন জাটকা ইলিশ নিধন হতে থাকে তাহলে এ মৌসুমে আর ইলিশ মিলবে না। তারা প্রশাসনের কঠোর নজরদারীর দাবি জানান।
IMG0
প্রশাসনের এ ঢিলেঢালা অভিযান কেবল পাইকারী ও খুচরা বাজারে নয়, নদ-নদীতেও চলছে একই রকম অবস্থা। নিষেধাজ্ঞার ১৫ দিনের অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাটকা ইলিশ জব্দ করা হয়।মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস জানান, ১৫ দিনে প্রায় ৬ হাজার কেজি জাটকা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ৬ জেলেকে কারাদণ্ড ও ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
 
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ইত্তেফাককে জানান, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে জাটকা নিধন বন্ধ ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। কয়েক বছর আগে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরকার প্রজনন মৌসুমে প্রথমে ৭ দিন, পরবর্তীতে ১৪ দিন ও সর্বশেষ আবহাওয়া পরিবর্তন দিক বিবেচনায় ২২ দিনসহ জাটকা ইলিশ ধরার ব্যাপারে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তার মতে প্রজনন মৌসুমের সময় বাড়ানোর পাশাপাশি জাটকা ইলিশ নিধন সারাবছরই বন্ধ রাখা হলে ইলিশের উৎপাদন বেড়ে যাবে।
 
প্রসঙ্গত, ১ নভেম্বর থেকে ৮ মাসের জন্য জাটকা ইলিশ ধরা, পরিবহন এবং বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এ সময় ১০ ইঞ্চির ছোট ইলিশ রক্ষায় আইন ভঙ্গকারীদের জরিমানার বিধান রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এ ৮ মাসে ১০ ইঞ্চির চেয়ে ছোট সাইজের ইলিশ ধরা, বিক্রি, মজুত ও পরিবহন করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।  
 
ইত্তেফাক/ইউবি