রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অপহৃত ছাত্রীকে ফেরত চেয়ে ভিসির বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে বিভিন্ন ছাত্রী হলের শিক্ষার্থী এবং ওই ছাত্রীর সহপাঠীরা এ বিক্ষোভ করেন। এসময় শিক্ষার্থীরা ভিসির বাসভবনের সামনে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা ‘ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নাই, প্রশাসন চুপ কেন?’ ইত্যাদি প্ল্যাকার্ডও বহন করেন।
এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনে আমাদের সহপাঠীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার স্বামীর সাথে তালাক হয়েছে। আইনত তালাক কার্যকর না হলেও তাকে কেউ এভাবে নিয়ে যেতে পারে না। ক্যাম্পাসে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? আজ তাকে নিয়ে গেছে কাল অন্য কাউকে নিয়ে যাবে।’
শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মো. আবদুস সোবহান বাসভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে তাদের আন্দোলন স্থগিত করতে বলেন।
IMG0
ভিসি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ‘অযৌক্তিক’ উল্লেখ করে তাদের বলেন, ‘এটা তাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপার। স্বামী তার স্ত্রীকে নিয়ে গেছে। অন্যায় হলে সেটা আইন দেখবে। এখানে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।’ ভিসি ওই ছাত্রীকে দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করার আশ্বাস দিলেও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। পরে ভিসি ব্যর্থ হয়ে তার বাসভবনে ফিরে যান।
এসময় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ভিসি বলেন, ‘এটি তাদের পারিবারিক বিষয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তালাক হয়েছে। কিন্তু আইনত সেটা কার্যকর হতে তিন মাস সময় লাগবে। এখনো তিনমাস সময় পূরণ না হওয়ায় তালাক কার্যকর হয়নি। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমস্যা থাকতেই পারে। আমি জানতে পেরেছি তালাক হওয়ার পরও তার স্বামী ক্যাম্পাসে এসে তার সাথে দেখা করত। এটা তাদের পরিবার মীমাংসা করবে। বিষয়টি ইতিমধ্যে ওই ছাত্রীর এলাকার পুলিশকেও জানানো হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, র্যাবকে জানিয়েছি। তারা খোঁজ খবর নিয়ে দেখছে। ওই ছাত্রীকে খুঁজে বের করতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’
আন্দোলনের এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীর বাবা ঘটনাস্থলে আসেন। পরে তিনি ভিসির সাথে কথা বলার জন্য তার বাসভবনে প্রবেশ করেন। ভিসির সাথে প্রায় আধঘণ্টা কথা বলে বেরিয়ে এসে প্রশাসনের পদক্ষেপের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘আমি এখনো আমার মেয়ের কোন সন্ধান পাইনি। এজন্য আমি খুবই উদ্বিগ্ন। এখনো জানি না আমার মেয়েকে কে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। তবে তার স্বামী আমার মেয়েকে ‘উঠিয়ে নিয়ে যাবে’ বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমার মেয়েকে উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। প্রশাসনের কাছে দাবি থাকবে আমার মেয়েকে যেন দ্রুত ফিরিয়ে দেয়।’
IMG1
প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের সামনে থেকে মাইক্রোবাসে ওই ছাত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অভিযোগ পাওয়া যায়। বাংলা বিভাগের স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি তাপসী রাবেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি এলাকার।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত তার সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানান, সকালে ভুক্তভোগীসহ তার তিনজন সহপাঠী স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে হল থেকে বের হন। এসময় বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা হলের সামনে সাদা মাইক্রোবাসে তার সাবেক স্বামী সোহেল রানাসহ ৫-৬জন যুবক তার পথরোধ করে জোরপূর্বক তাকে তুলে নিয়ে যায়।
ইত্তেফাক/আরকেজি